
বেঙ্গালুরু: যেন এক অনন্তকাল! মাঝআকাশে টানা ২৪০ মিনিট মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়লেন এক বিমানভর্তি যাত্রী। যান্ত্রিক বিকলতার জেরে হায়দরাবাদ থেকে হুবলিগামী ‘Fly91’ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তৈরি হলো রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি। অবতরণের পথ খুঁজে না পেয়ে টানা চার ঘণ্টা আকাশে চক্কর কাটল বিমানটি। অবশেষে বেঙ্গালুরুতে জরুরি অবতরণ করে প্রাণ বাঁচল প্রত্যেকের, তবে ততক্ষণে আতঙ্ক আর কান্নায় বিধ্বস্ত বিমানের অন্দর।
রুদ্ধশ্বাস চার ঘণ্টা: কী ঘটেছিল সেদিন?
রবিবার বিকেল ৩টে নাগাদ হায়দরাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ে Fly91-এর IC3401 বিমানটি (ATR Turboprop)। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ হুবলিতে অবতরণের কথা ছিল। কিন্তু গন্তব্যের কাছে পৌঁছাতেই ধরা পড়ে ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটি। অবতরণ করতে ব্যর্থ হয়ে পাইলট শুরু করেন ‘হোল্ডিং প্যাটার্ন’। মুন্ডগোড়, দাবানগেরে এবং শিবমোগার আকাশে চক্কর কাটতে কাটতে সময় এগোতে থাকে, কিন্তু কাটেনি অনিশ্চয়তার মেঘ।
বিমানের অন্দরে হাহাকার ও প্রার্থনা Fly91 emergency landing
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে ধরা পড়েছে সেই হাড়হিম করা মুহূর্ত। এক নারী যাত্রীকে দেখা যায় দুই হাত জোড় করে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে ভগবানের নাম জপছেন। অন্য যাত্রীরাও তখন স্রেফ অলৌকিক কিছুর আশায়। কোনো পুরুষ যাত্রীর কণ্ঠে আর্তনাদ, আবার কেউ কেউ সহযাত্রীদের সাহস জোগানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। বিমানের ভেতর ঘন ঘন টালমাটাল পরিস্থিতি (Turbulence) তৈরি হওয়ায় আতঙ্ক পৌঁছায় চরম সীমায়।
নিরাপদ অবতরণ ও স্বস্তি
একাধিকবার অবতরণের বিফল চেষ্টার পর রাত সাড়ে ৭টা নাগাদ বিমানটিকে বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ৪ ঘণ্টার অসহ্য উৎকণ্ঠা শেষে চাকা মাটি ছুঁতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন যাত্রীরা। ধড়ে প্রাণ ফিরে পান পরিজনরা। যদিও কী ধরণের প্রযুক্তিগত ক্রটি এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল, তা নিয়ে এখনো উচ্চবাচ্য করেনি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

