জাল পরিচয়পত্র নিয়ে NIA সেজে ব্ল্যাকমেইল! গেরুয়া রাজ্যে গ্রেফতার যুবক

ভুবনেশ্বর: ওড়িশার ভুবনেশ্বরে চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রেফতার হল এক ব্যক্তি (Fake NIA)। যিনি নিজেকে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা NIA-র অফিসার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন বলে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
fake-nia-officer-arrested-bhubaneswar-blackmail-case

ভুবনেশ্বর: ওড়িশার ভুবনেশ্বরে চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রেফতার হল এক ব্যক্তি (Fake NIA)। যিনি নিজেকে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা NIA-র অফিসার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত শুধু ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করেই থেমে থাকেননি, বরং ব্ল্যাকমেল, ভয় দেখানো এবং একটি ভুয়ো গণধর্ষণ মামলার পিছনেও তাঁর ভূমিকা থাকতে পারে। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ওড়িশা জুড়ে।

কটক ও ভুবনেশ্বরের পুলিশ কমিশনার এস দেবদত্ত সিং শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, খারভেলা নগর থানার পুলিশ সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত ব্যক্তি নিজেকে ‘আশিস রেড্ডি’ নামে পরিচয় দিতেন এবং দাবি করতেন যে তিনি NIA-র সঙ্গে যুক্ত। তবে তদন্তে জানা যায়, তাঁর সমস্ত পরিচয়পত্র এবং দাবিই সম্পূর্ণ ভুয়ো।

   

আরও দেখুনঃ ফের গ্রেফতার দেবরাজ ঘনিষ্ট কাউন্সিলার! পুলিশের জালে বিধাননগর পুরসভার সম্রাট বড়ুয়া

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের গাড়ি তামিলনাড়ুতে রেজিস্টার্ড। সেই গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে একাধিক ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও তাঁর কাছ থেকে NIA-র জাল পরিচয়পত্র এবং NIA-র লোগো লাগানো টি-শার্টও উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই ভুয়ো পরিচয়ের জোরে তিনি সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করতেন এবং অপরাধমূলক কাজ চালাতেন।

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় একটি গণধর্ষণের অভিযোগের তদন্তে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’দিন আগে এক মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন যে তিনি গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিন্তু তদন্ত যত এগোতে থাকে, ততই সন্দেহ বাড়তে থাকে। পরে পুলিশ জানতে পারে, এই ভুয়ো NIA অফিসার ওই মহিলাকে সাহায্য করছিলেন এবং তিনিই তাঁকে এই মামলা দায়ের করতে প্ররোচিত করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কমিশনার দেবদত্ত সিং জানান, “আমরা গভীর তদন্তে নামার পর জানতে পারি, ওই ব্যক্তি নিজেকে NIA অফিসার পরিচয় দিয়ে মহিলাকে ভুয়ো মামলা দায়ের করতে উৎসাহিত করেছিলেন।” পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এই ঘটনার পিছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না।

তদন্তকারীদের মতে, অভিযুক্ত অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। NIA-র নাম ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করা এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। সাধারণ মানুষ অনেক সময় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নাম শুনে সহজেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, আর সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছিলেন অভিযুক্ত।

এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে। কীভাবে একজন ব্যক্তি এতদিন ধরে ভুয়ো কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা আধিকারিক সেজে ঘুরে বেড়ালেন, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পাশাপাশি, ভুয়ো মামলা তৈরি করে কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগও অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছে পুলিশ। বর্তমানে ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, অথবা এর আগে তিনি একইভাবে অন্য কাউকে ব্ল্যাকমেল করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই এই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google