Fighter Jet: ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-এর অধীনে ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তির এক নতুন অধ্যায় লেখা হচ্ছে, এবং এই গল্পের সবচেয়ে উজ্জ্বল নায়ক হল তেজস এমকে১এ যুদ্ধবিমান। এটি কেবল একটি যুদ্ধবিমান নয়, বরং একটি প্রযুক্তিগত বিস্ময় যা বিশ্বের সবচেয়ে হালকা সুপারসনিক যুদ্ধবিমানের খেতাব ধারণ করে। এর হালকা ওজন এবং শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য এটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে ‘গেম চেঞ্জার’ করে তোলে, যা এমনকি শত্রুরাও ভয় পায়।
তেজস যুদ্ধবিমান ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সবচেয়ে বড় প্রতীক। এটি অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছে এবং হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড দ্বারা তৈরি করা হচ্ছে। তেজস এমকে১এ-এর উন্নয়ন ভারতকে বিশ্বের নির্বাচিত দেশগুলির তালিকায় স্থান দিয়েছে যারা তাদের নিজস্ব যুদ্ধবিমান প্রযুক্তি তৈরি করতে সক্ষম।
তেজস এমকে১এ-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর ওজন। এটি একটি যুদ্ধবিমান যা ওজনে হালকা হওয়া সত্ত্বেও অন্য যেকোনো যুদ্ধবিমানের চেয়ে কম শক্তিশালী নয়। তেজসের ওজন মাত্র ৬.৫ টন। এই ওজন সম্ভব হয়েছে এর নকশায় ব্যবহৃত কার্বন ফাইবার কম্পোজিট উপাদানের কারণে। এই উপাদানটি কেবল বিমানটিকে হালকা করে না, বরং এটিকে অসাধারণ শক্তিও দেয়।
এটি একটি শক্তিশালী F404-GE-IN20 টার্বোফ্যান ইঞ্জিন দিয়ে সজ্জিত, যা এটিকে ম্যাক 1.6 এর অসাধারণ গতিতে নিয়ে যেতে পারে। এটি 15,000 মিটার উচ্চতায়ও উড়তে পারে, যা আকাশ যুদ্ধে শত্রুদের পরাজিত করতে সাহায্য করে।
এই বিমানটি আকাশ থেকে আকাশ, আকাশ থেকে ভূমি এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। এছাড়াও, এটিতে একটি টুইন-ব্যারেল GSh-23 কামানও লাগানো আছে, যা ঘনিষ্ঠ বিমান যুদ্ধে শত্রুদের জন্য মারাত্মক প্রমাণিত হতে পারে।
তেজস এমকে১এ একটি অত্যাধুনিক রাডার এবং এভিওনিক্স সিস্টেম দিয়ে সজ্জিত, যা পাইলটকে সমগ্র যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয় এবং শত্রুর আক্রমণকে নিরপেক্ষ করতে সহায়তা করে।
তেজস এমকে১এ-এর এই বৈশিষ্ট্যগুলি এটিকে কেবল বিশ্বের সবচেয়ে হালকা সুপারসনিক ফাইটার জেটই করে না, বরং এটিকে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং কার্যকর বহুমুখী যুদ্ধবিমানও করে তোলে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহরে যোগদানের মাধ্যমে, এটি দেশের বিমান নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে।





















