হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংসভাবে খুনের প্রতিবাদে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে বৃহৎ বিক্ষোভ করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। এই প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন VHP দিল্লি রাজ্য সেক্রেটারি সুরেন্দ্র গুপ্তা (Surendra Gupta)। তিনি বলেন, “আমরা চাইছিলাম পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছুক।”
মিছিলকারীরা স্ট্রিট মার্টিন মার্কেটে নিরাপত্তার কারণে থামতে বাধ্য হন, কিন্তু তাঁরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানান, যেন বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। বিক্ষোভকারীরা শ্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড নিয়ে দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার নিন্দা জানান। তাঁদের বক্তব্য, এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তি হত্যা নয়, বরং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ক্রমবর্ধমান হিংসার প্রতীক।
সুরেন্দ্র গুপ্তা সাংবাদিকদের জানান, “আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জানতে পারে, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকির মধ্যে আছে। আমাদের দাবি, এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা হোক যাতে দোষীদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হয়।” তিনি আরও বলেন, “এটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সমস্যার বিষয় নয়, এটি মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের বিষয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।”
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন এবং সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটেছে। দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড সেই দীর্ঘ তালিকার একটি দুঃখজনক অধ্যায় মাত্র। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলির নজর এ ধরনের ঘটনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবাদী মিছিলটি শান্তিপূর্ণ হলেও পুলিশের উপস্থিতি ছিল শক্তিশালী। নিরাপত্তার জন্য পথ অবরোধ করা হয় এবং মিছিলকারীদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা এড়ানো হবে।
VHP-এর নেতারা বলেছেন, এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে শক্ত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বেশি নিরীহ মানুষ নির্যাতনের শিকার হতে পারে। তাঁদের মতে, বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিই একমাত্র পথ।
বিক্ষোভ শেষের পর, সুরেন্দ্র গুপ্তা সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “আমরা দেখিয়েছি যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমাদের কণ্ঠ শোনা প্রয়োজন। দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার মতো ঘটনা পুনরায় ঘটতে দেওয়া যায় না। আমাদের মানবাধিকারের পক্ষ থেকে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে।”
এই আন্দোলন শুধু দিল্লিতে নয়, দেশের অন্যান্য শহরেও সমর্থন পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক চাপ ও সচেতনতা বৃদ্ধিই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র কার্যকর উপায়।
