ভারতের প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান ‘এএমসিএ’-এর জন্য টেন্ডার জারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের

নয়াদিল্লি, ২৮ মে: ভারতীয় বিমান বাহিনীর শক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কেন্দ্রীয় সরকার (Defence Ministry) একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন কর্মসূচিকে গতিশীল…

AMCA fighter jet

নয়াদিল্লি, ২৮ মে: ভারতীয় বিমান বাহিনীর শক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কেন্দ্রীয় সরকার (Defence Ministry) একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন কর্মসূচিকে গতিশীল করতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA) প্রকল্পের জন্য রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP), অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক দরপত্র, জারি করেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর খবর অনুযায়ী, দেশের সামরিক প্রস্তুতিকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্যে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের জন্য তিনটি নির্বাচিত শিল্পগোষ্ঠী ও তাদের কনসোর্টিয়ামকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের এই বৃহত্তম চুক্তিটি পেতে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)-ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (বিইএল) কনসোর্টিয়াম এবং ভারত ফোর্জ-বিইএমএল অংশীদারিত্বের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

দেশের প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান
ভারত তার প্রতিরক্ষা প্রয়োজনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি যুদ্ধবিমানের উপর নির্ভর করে আসছে, কিন্তু এএমসিএ প্রকল্পটি আত্মনির্ভরশীলতার এই চিত্রকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিতে চলেছে। এটি ভারতের প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি। এর মানে হলো, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে এই যুদ্ধবিমানটি শত্রুর রাডারে অদৃশ্য থাকবে।

   

এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুধু বিমান বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতাই জোরদার করবে না, বরং দেশের অভ্যন্তরে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নেও পথ দেখাবে। গত বছর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচির বাস্তবায়ন মডেলটি অনুমোদন করেছেন। এই মডেলের অধীনে, অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এডিএ) শিল্পক্ষেত্রের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এবং একটি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের অগ্রগতির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।

নতুন বিমানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সজ্জিত থাকবে
ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য এই দেশীয় বিমানটি সম্পূর্ণরূপে তৈরি করা হচ্ছে। বিমানটির নকশা প্রণয়নকারী সংস্থা অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এডিএ)-এর মতে, এই যুদ্ধবিমানে বিশেষায়িত স্টিলথ প্রযুক্তির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থাও সমন্বিত থাকবে। এই এআই প্রযুক্তি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাইলটদের দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে এবং মিশনের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করবে।

অন্ধ্র প্রদেশে নির্মিত হবে বিশ্বের সেরা পরীক্ষাকেন্দ্র
এই বিশাল প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সময়মতো সমাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এই মাসের শুরুতে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু পুত্তাপার্থিতে কোর ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড ফ্লাইট টেস্টিং সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কেন্দ্রটি ভবিষ্যতের দেশীয় বিমানের পরীক্ষা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত করবে।