কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) দাবি করেছেন, কেন্দ্র সরকার আসন্ন মনসুন অধিবেশনে ডিলিমিটেশন বিল আনতে পারে এবং এই পদক্ষেপের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিল আনার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, প্রস্তাবিত পরিবর্তন দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) বলেন, গত ১৭ এপ্রিল সরকার ডিলিমিটেশন বিলের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তাঁর দাবি, সেই ব্যর্থতার পর থেকেই বিরোধী দলগুলিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র মতো বিরোধী দলগুলিকে ভাঙার প্রচেষ্টা সেই রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ।
তিনি আরও জানান, কংগ্রেস এমন একটি প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেছে, যেখানে বলা হয়েছে কোনও মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী টানা ৩০ দিন কারাগারে থাকলে তাঁকে পদ থেকে অপসারণের বিধান রাখা হবে। কংগ্রেসের মতে, এ ধরনের আইন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা ও সাংবিধানিক পর্যালোচনা প্রয়োজন।
জয়রাম রমেশের (Jairam Ramesh) বক্তব্য অনুযায়ী, মনসুন অধিবেশনেই ডিলিমিটেশন বিল সংসদে উত্থাপিত হতে পারে। সেই কারণেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়েছেন। কংগ্রেসের বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়া এবং প্রস্তাবগুলি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি।
কংগ্রেসের অন্যতম বড় উদ্বেগ হলো, ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার ফলে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জয়রাম রমেশের দাবি, এই রাজ্যগুলি দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। ফলে শুধুমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভা আসনের পুনর্বিন্যাস করা হলে, এই রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে। তাঁর মতে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের জন্য কোনও রাজ্যকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের কথা মাথায় রেখেই ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। কারণ এই ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং ফেডারেল কাঠামোর উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
জয়রাম রমেশের মতে, ডিলিমিটেশন নিয়ে সরকার যদি এগোতেই চায়, তবে তা সর্বসম্মত আলোচনা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং সব রাজ্যের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই করা উচিত। কংগ্রেসের দাবি, এই ইস্যুতে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা এবং সর্বদলীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে দলটির বক্তব্য, দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখতে সকল পক্ষের মতামতকে সমান গুরুত্ব দেওয়াই হবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ





