মাঝরাতে ফোন বেজে ঘুম ভাঙল মোদীর! সাময়িকভাবে স্থগিত হল জরুরি দুর্যোগ সতর্কতা

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারের হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্তে সাময়িক ভাবে বন্ধ (Cell Broadcasting)হল দেশজুড়ে জরুরি দুর্যোগ সতর্কতা পাঠানোর আধুনিক ব্যবস্থা ‘সেল ব্রডকাস্টিং সার্ভিসেস’ (সিবিএস) । জাতীয় দুর্যোগ…

cbs-disaster-alert-service-suspended-india

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারের হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্তে সাময়িক ভাবে বন্ধ (Cell Broadcasting)হল দেশজুড়ে জরুরি দুর্যোগ সতর্কতা পাঠানোর আধুনিক ব্যবস্থা ‘সেল ব্রডকাস্টিং সার্ভিসেস’ (সিবিএস) । জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) ১২ জুন একটি আদেশ জারি করে জানিয়েছে, কিছু প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সেবা বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একটি অস্বস্তিকর ঘটনা, সূত্রের খবরে এমনটাই জানা গিয়েছে।

এই সেল ব্রডকাস্টিং সিস্টেমটি সম্প্রতি দেশজুড়ে চালু করা হয়েছিল। এর বিশেষত্ব হল কোনো দুর্যোগের সময় (যেমন ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা ভয়ংকর আবহাওয়া) সংশ্লিষ্ট এলাকার সব মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জোরে অ্যালার্ট বাজিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো। ফোন সাইলেন্ট থাকলেও বা বন্ধ থাকলেও এই অ্যালার্ট জোরালো শব্দে বেজে ওঠে। এটি জাপান, আমেরিকার মতো দেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ভারতে এটিকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

   

আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/politics/tmc-rebel-mps-join-ncpi-controversy/

কিন্তু চালু হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় এই ব্যবস্থা সমস্যায় পড়ল। সূত্র অনুসারে, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিট থেকে একটি মাঝরাতের টেস্ট অ্যালার্ট পাঠানো হয়। এই অ্যালার্টটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরেও পৌঁছে যায়। মাঝরাতে হঠাৎ জোরালো অ্যালার্টের শব্দে ঘুম ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।

এরপরই এনডিএমএ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সার্ভিসটি স্থগিত করে।সরকারি আদেশে স্পষ্ট করে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি, শুধু বলা হয়েছে ‘কম্পিটেন্ট অথরিটির ফ্ল্যাগ করা কিছু সমস্যা’র কথা। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, হাই-সিকিউরিটি নম্বরগুলোকে টেস্ট ডাটাবেস থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি না হওয়ায় এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই এটিকে ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’ বলে বর্ণনা করছেন।

এই সিস্টেম চালুর পর থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষ করে দিল্লি-এনসিআর, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানায় একাধিক অ্যালার্ট এসেছে। কখনও কখনও রাতের বেলাতেও একাধিকবার অ্যালার্ট আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরক্তি দেখা দিয়েছিল। অনেকে বলছেন, “জরুরি সতর্কতা দরকার, কিন্তু তার জন্য ঘুমের ব্যাঘাত হওয়া উচিত নয়।” আবার কেউ কেউ এই ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলেছেন, প্রকৃত দুর্যোগের সময় এটি অনেক প্রাণ বাঁচাতে পারত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই স্থগিতাদেশ সাময়িক। শিগগিরই প্রয়োজনীয় সংশোধন করে আবার চালু করা হবে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, সেনা কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নম্বরকে এই সিস্টেমের বাইরে রাখার টেকনিক্যাল সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এছাড়া অ্যালার্টের ফ্রিকোয়েন্সি ও সময় নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও আরও সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।