
নয়াদিল্লি: দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ফের বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ (CBI arrests Lt Col Deepak Kumar Sharma)সামনে আনল সিবিআই। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আজ গ্রেফতার করা হয়েছে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল দীপক কুমার শর্মা এবং এক বেসরকারি ব্যক্তি বিনোদ কুমারকে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই অভিযানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে এই মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দীপক কুমার শর্মা বর্তমানে প্রতিরক্ষা উৎপাদন দফতরের (Department of Defence Production) আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও রফতানি শাখার ডেপুটি প্ল্যানিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, একটি দুবাই-ভিত্তিক সংস্থার হয়ে কাজ করা বিনোদ কুমারের মাধ্যমে তিনি ঘুষ গ্রহণ করেছেন।
কর্মহীন ২৫৮ কারখানার লক্ষাধিক কর্মী! ভারত দখলের হুঙ্কার দেয় বাংলাদেশ
তদন্তে উঠে এসেছে, গত ১৮ ডিসেম্বর ওই দুবাইয়ের সংস্থার নির্দেশে বিনোদ কুমার নগদ ৩ লক্ষ টাকা ঘুষ হিসেবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল শর্মার হাতে তুলে দেন। এই অর্থের বিনিময়ে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনও চুক্তি বা সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সেই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনও তদন্তাধীন।
এই মামলায় শুধু লেফটেন্যান্ট কর্নেল শর্মাই নন, তাঁর স্ত্রী কর্নেল কাজল বালির নামও এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে অবস্থিত ১৬ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন অর্ডন্যান্স ইউনিটের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। যদিও তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার পর সিবিআই একযোগে দিল্লি, শ্রীগঙ্গানগর, বেঙ্গালুরু, জম্মু সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায়। দিল্লিতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল শর্মার বাসভবন থেকে ঘুষের ৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার করার পাশাপাশি আরও ২ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা নগদ পাওয়া যায়। অন্যদিকে শ্রীগঙ্গানগরে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও ১০ লক্ষ টাকা নগদ। এছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সন্দেহজনক সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সিবিআই জানিয়েছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল শর্মার দিল্লির অফিসেও এখনও তল্লাশি চলছে। তদন্তকারীরা তাঁর আর্থিক লেনদেন, বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য আরও জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন। গ্রেফতারের পর আজই অভিযুক্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দীপক কুমার শর্মা ও বিনোদ কুমারকে আদালতে পেশ করা হয়। আদালত দু’জনকেই ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। সিবিআইয়ের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
এই ঘটনার পর প্রতিরক্ষা মহলে প্রশ্ন উঠছে দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত দফতরে এমন দুর্নীতি কতটা গভীরে শিকড় গেড়েছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রতিরক্ষা রফতানির মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই মামলার তদন্ত কতদূর এগোয় এবং আরও কোনও বড় নাম জড়িয়ে পড়ে কি না, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।










