অনুপ্রবেশের পরেই বিএসএফের গুলিতে খতম দুই বাংলাদেশি

bsf-firing-two-bangladeshis-killed-infiltration-border-tension

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের উত্তেজনা। অভিযোগ, (BSF firing Bangladesh infiltrators killed)অনুপ্রবেশের পর ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু হল দুই বাংলাদেশি যুবকের। নিহতদের নাম আশিকুর রহমান (১৯) এবং মোশাহিদ (২২)। ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ রাতে, সিলেট–মেঘালয় সীমান্তবর্তী একটি প্রত্যন্ত এলাকায়। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৬০০ মিটার ভেতরে ঢুকে পড়ার পরই এই গুলির ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম TBS News-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় পুলিশ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ওই দুই যুবক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকেছিলেন। প্রাথমিকভাবে দাবি করা হচ্ছে, তাঁরা সুপারি সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। সীমান্ত এলাকায় সুপারি চোরাচালান ও অবৈধ সংগ্রহ নতুন কিছু নয়। বহুদিন ধরেই এই অঞ্চলে এমন ঘটনা ঘটে আসছে। তবে এদিনের ঘটনায় গুলি চালিয়ে দু’জনের মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

   

দলের নেতাদের চুরি ফাঁস করলেন তৃণমূল বিধায়ক!

বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যম সরাসরি গুলির দায় চাপিয়েছে ভারতের Border Security Force বা বিএসএফের ওপর। আবার অন্য কয়েকটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গুলি চালাতে পারে স্থানীয় খাসি গ্রামবাসীরাও। এই দ্বন্দ্বপূর্ণ তথ্য ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে—আসলে কার গুলিতে মৃত্যু হল দুই যুবকের? এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।

অন্যদিকে, ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত কোনও রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি। সীমান্ত সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির জেরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি এবং সতর্কতা বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে বিএসএফকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।

এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যম এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পোস্টটির জবাবে অধিকাংশ ভারতীয় ব্যবহারকারী বিএসএফের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ঢুকে পড়লে নিরাপত্তার স্বার্থেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। অনেকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন, অতীতে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের সঙ্গে জড়িত বহু অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁদের মতে, অনুপ্রবেশকারী হলেও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার শেষ বিকল্প হওয়া উচিত। সীমান্তে অহরহ এমন মৃত্যুর ঘটনা দু’দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও মত তাঁদের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এক হাজার দুইশোরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই মৃত্যুর সঙ্গে চোরাচালান বা অবৈধ অনুপ্রবেশ জড়িত ছিল।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কয়েকজন নেতা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দুই দেশের যৌথ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে।

সব মিলিয়ে, আশিকুর ও মোশাহিদের মৃত্যু ফের দেখিয়ে দিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কতটা স্পর্শকাতর। অনুপ্রবেশ, জীবিকা ও নিরাপত্তা—এই তিনের টানাপোড়েনে মাঝেমধ্যেই প্রাণ হারাচ্ছেন সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদ্ঘাটনে দু’দেশের প্রশাসনের স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়িত্বশীল অবস্থানই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন