যোগীর রাজ্যে বিপাকে ৬ বঙ্গতনয়া, পুলিশকে জানাতেই চরম পদক্ষেপ

বাংলার ছয় তরুণী,তাদের সঙ্গেই ঘটে গিয়েছিল ভয়ঙ্কর ঘটনা। (Bengal women)বাড়ি ফেরার পথে বাস অপারেটরের প্রতারণায় তারা গোরখপুরে আটকে পড়েছিলেন। টিকিট কেটে বাসে ওঠার পর দেখলেন,…

bengal-women-stranded-gorakhpur-bus-fraud

বাংলার ছয় তরুণী,তাদের সঙ্গেই ঘটে গিয়েছিল ভয়ঙ্কর ঘটনা। (Bengal women)বাড়ি ফেরার পথে বাস অপারেটরের প্রতারণায় তারা গোরখপুরে আটকে পড়েছিলেন। টিকিট কেটে বাসে ওঠার পর দেখলেন, সবকিছু ঠিকঠাক নয়। অপারেটর টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। দূরের পথ, অচেনা শহর, আর আর্থিক ক্ষতি সব মিলিয়ে মেয়েদের মনে ভয় আর হতাশা ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি গল্পটা।

Advertisements

বরং শুরু হয়েছিল একটা সুন্দর অধ্যায়, যেখানে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।ঘটনাটা ঘটেছিল গোরখপুরে। মেয়েরা ব্যাঙ্গালুরু থেকে পশ্চিমবঙ্গে ফিরছিলেন। বাস অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী টিকিট কেটেছিলেন, কিন্তু পৌঁছে দেখলেন সবকিছু ফাঁকি। বাস চলছে না, অপারেটরের কোনো খোঁজ নেই। আটকে পড়া ছয়জনের মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। একজন মেয়ে পরে ভিডিওতে বলেছেন, “আমরা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।

আরও দেখুনঃ কোন জেলায় কত কম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী? প্রকাশ্যে এল পূর্ণ তালিকা

রাত হয়ে যাচ্ছিল, অচেনা জায়গা। টাকাও ফেরত পাওয়ার কোনো আশা দেখছিলাম না।” আরেকজন যোগ করেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়তো কোনও সাহায্য পাব না। কিন্তু পুলিশ স্টেশনে গিয়ে যা ঘটল, সেটা আমাদের অবাক করে দিয়েছে।”তারা সোজা গোরখপুরের উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। পুলিশের সাড়া ছিল তাৎক্ষণিক। অফিসাররা তাদের কথা মন দিয়ে শুনলেন, বিস্তারিত জানতে চাইলেন।

তারপরই শুরু হলো অ্যাকশন। পুলিশ অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করল, চাপ দিল। খুব অল্প সময়ের মধ্যে পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হলো। শুধু তাই নয়, মেয়েদের আরও একটা বড় সাহায্য করা হলো। পুলিশ নিজেরা ব্যবস্থা করে শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটা বাসের বন্দোবস্ত করে দিল। যাতে তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন।ভিডিওতে মেয়েরা একে একে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।

একজন হাসিমুখে বলেন, “আমরা ভাবতেই পারিনি যে এত তাড়াতাড়ি সব ঠিক হয়ে যাবে। পুলিশ ভাইয়েরা আমাদের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করেছেন। মনে হয়েছে, আমরা একা নই।” আরেকজন যোগ করেন, “টাকা ফেরত পাওয়া তো বড় কথা, তারা আমাদের নিরাপত্তারও খেয়াল রেখেছেন। শিলিগুড়ির বাসের ব্যবস্থা না করলে আমরা আরও বিপদে পড়তাম।” তাদের কথায় স্পষ্ট, এই ঘটনা তাদের মনে একটা ইতিবাচক ছাপ ফেলেছে। প্রতারণার শিকার হয়েও শেষ পর্যন্ত তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরেছেন।