বাংলায় বিজেপি সরকার আসতেই পাক-বাংলাদেশের গোপন চুক্তি ঘিরে বাড়ছে রহস্য

ঢাকা: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU Controversy) ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে তীব্র আলোচনা ও সন্দেহ…

bangladesh-pakistan-mou-controversy-security-concern

ঢাকা: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU Controversy) ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে তীব্র আলোচনা ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত না থাকা সত্ত্বেও ‘সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ’ এবং ‘ক্রস-বর্ডার টেররিজম’ মোকাবিলায় সহযোগিতার চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সম্প্রতি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে মাদক চোরাচালান, অর্থ পাচার এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে সহযোগিতার বিষয়ে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ অভিযান এবং কারিগরি সহায়তার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরত্ব এবং কোনো স্থল সীমান্ত না থাকায় এই চুক্তির বাস্তবতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত রয়েছে ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে।

Advertisements

আরও দেখুনঃ শুভেন্দুর শপথে শুভেচ্ছা লক্ষ্মীরতনের, নতুন করে শুরু রাজনৈতিক জল্পনা

পাকিস্তানের সঙ্গে সমুদ্রপথ ছাড়া সরাসরি যোগাযোগ নেই। তাই ‘সীমান্ত চোরাচালান’ শব্দটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এই চুক্তির আড়ালে আসলে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে পাকিস্তান থেকে জাহাজে করে বাংলাদেশে মাদক ও অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে নাকভির সফরকে অনেকে ‘অত্যন্ত সন্দেহজনক’ বলে মনে করেছেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদ থেকে ঢাকাকে জানিয়ে নাকভির সফরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এত দ্রুত সফর এবং চুক্তি স্বাক্ষরকে ‘কভার্ট মিশন’ বলে সন্দেহ করছেন কেউ কেউ। তাঁদের মতে, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে ভারত-বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা হতে পারে এর পেছনে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই চুক্তি শুধুমাত্র মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য। মাদকের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক মোকাবিলায় এ ধরনের সমঝোতা প্রয়োজনীয়। পাকিস্তানও একই সুরে বলেছে, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করবে।তবে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। একজন ঢাকার বাসিন্দা বলেন, “দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত না থাকলে এমন চুক্তির প্রয়োজন কেন? সমুদ্রপথে যদি মাদক আসে, তাহলে সেটা আলাদাভাবে মোকাবিলা করা যায়। এর পেছনে অন্য কোনো এজেন্ডা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।”