
পরপর দু’দিন ধরে চলা অশান্তি ও হিংসার ঘটনার জেরে অসমের (Aasam) পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি হিংসাত্মক ঘটনার ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতি না হয় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যেই রাজ্য প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সেনা নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম কার্বি আংলংয়ের কয়েকটি সংবেদনশীল এলাকায় গত দু’দিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাগুলির জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে রাজ্য পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেনার সাহায্য নেওয়া হয়।
অসম পুলিশের মহাপরিচালক (DGP) হরমিৎ সিং এ বিষয়ে জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেনা, পুলিশ এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, গুজব বা ভুয়ো খবর ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়েছে। রাতভর টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য কিছু এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জমায়েতে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, সেনা মোতায়েনের পর থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়েছে। তবে এখনও আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। অনেকেই চাইছেন প্রশাসন দ্রুত স্থায়ী শান্তি ফেরানোর ব্যবস্থা নিক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করুক। ব্যবসায়ী মহলও পরিস্থিতির উন্নতির দিকে নজর রাখছে, কারণ অশান্তির জেরে ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে।
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে খবর, পরিস্থিতির প্রতিটি আপডেট নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, আইন নিজের হাতে নেওয়ার কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না এবং যারা হিংসায় যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।






