
নয়াদিল্লি: ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) অসামান্য সাহস এবং কৃতিত্ব প্রদর্শনের জন্য গগনযান মিশনের অন্যতম নভোচারী, গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লাকে দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন বীরত্বের পুরস্কার ‘অশোক চক্র’ প্রদান করলেন রাষ্ট্রপতি। উইং কমান্ডার রাকেশ শর্মার পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশ জয়ের পাশাপাশি, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁর অদম্য মানসিক দৃঢ়তা আজ তাঁকে এই অনন্য সম্মানে ভূষিত করল।
মহাকাশের অসীম উচ্চতায় সাহসিকতার নজির
সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বের জন্য অশোক চক্র দেওয়া হলেও, শুভাংশু শুক্লা প্রমাণ করেছেন যে সাহস কেবল রণক্ষেত্রের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশে ভারতের মহাকাশ স্বপ্নকে সফল করতে তিনি যে ভূমিকা নিয়েছেন, তা এক নতুন মাইলফলক। লখনউয়ের এক সাধারণ তরুণ থেকে মহাকাশযানের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার এই যাত্রা ভারতের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।
অ্যাক্সিওম-৪ মিশন ও ২০ দিনের মহাকাশ যাপন Ashok Chakra to Shubhanshu Shukla
২০২৫ সালের ২৫ জুন, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিল অ্যাক্সিওম-৪ (Axiom-4) মিশন। এই অভিযানের অংশ হিসেবে শুভাংশু শুক্লা মহাকাশে প্রায় ২০ দিন অতিবাহিত করেন। গত ১৪ জুলাই তিনি সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। এই স্বল্প সময়ে তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় অভাবনীয় কাজ করেছেন৷
পরীক্ষা-নিরীক্ষা: জৈব চিকিৎসা বিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান, কৃষি, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং পদার্থ বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে ৬০টিরও বেশি জটিল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন।
চ্যালেঞ্জ: তীব্র শারীরিক চাপ, বিকিরণ, মাইক্রোগ্রাভিটি এবং পেশীর ক্ষতির মতো গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি সত্ত্বেও তিনি অটল ছিলেন।
লখনউ থেকে মহাকাশ: এক স্বপ্নপূরণের গল্প
উত্তর প্রদেশের লখনউয়ের সন্তান শুভাংশু ২০০৬ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। এনডিএ (NDA) থেকে স্নাতক হওয়ার পর থেকেই তাঁর কর্মদক্ষতা নজর কেড়েছিল। ২০১৯ সালে তিনি ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘গগনযান’ মিশনের জন্য নির্বাচিত হন। তাঁর এই অর্জন প্রমাণ করে যে ভারতীয় অভিযাত্রীরা এখন পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাবিশ্বের সীমানা অন্বেষণে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

