
একদিকে মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি, অন্যদিকে ঘন কুয়াশার দাপট—দুই ভিন্ন ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিমানযাত্রীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হল। সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে কেরলের কোঝিকোড়ে যাওয়ার পথে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমানকে জরুরি অবতরণ করাতে হল কোচিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। অন্যদিকে, ঘন কুয়াশার জেরে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হল বিমান পরিষেবা।
মূল ল্যান্ডিং গিয়ার ও টায়ারে যান্ত্রিক সমস্যা
কোচিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লিমিটেড (CIA L) সূত্রে জানানো হয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ফ্লাইট নম্বর IX 398-এ মোট ১৬০ জন যাত্রী ছিলেন। কোঝিকোড়ে নামার আগে বিমানের ডানদিকের মূল ল্যান্ডিং গিয়ার ও টায়ারে যান্ত্রিক সমস্যা ধরা পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিমানটিকে কোঝিকোড়ে নামানোর বদলে কোচিতে ডাইভার্ট করা হয়।
CIAL-এর বিবৃতি অনুযায়ী, সমস্ত জরুরি পরিষেবা আগাম সক্রিয় করে পূর্ণ জরুরি পরিস্থিতির মধ্যে সকাল ৯টা ৭ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, অবতরণের পর পরীক্ষা করে দেখা যায়, বিমানের ডানদিকের দু’টি টায়ারই ফেটে গিয়েছিল। তবে এই ঘটনায় কোনও যাত্রী বা ক্রু সদস্য আহত হননি।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় দিল্লি বিমানবন্দর Air India Express emergency landing
অন্যদিকে, উত্তর ভারতে ঘন কুয়াশার জেরে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে দেশের ব্যস্ততম বিমানবন্দর—দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সোমবার ভোর থেকেই দৃশ্যমানতা নেমে যাওয়ায় বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন মোট ২২৮টি বিমান বাতিল করতে বাধ্য হয় বিমান সংস্থাগুলি। এর মধ্যে ১৩১টি ছিল উড়ান এবং ৯৭টি অবতরণ।
কুয়াশার কারণে আরও পাঁচটি বিমানকে আশপাশের বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দিতে হয়। তবে বেশিরভাগ বিমান সংস্থা বাতিল বা বিলম্বিত বিমানের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। একমাত্র এয়ার ইন্ডিয়াই প্রকাশ্যে জানায়, তারা প্রায় ৪০টি বিমান বাতিল করেছে।
দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “দিল্লিতে ঘন কুয়াশার ফলে দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কমে যাওয়ায় সব বিমান সংস্থারই উড়ান প্রভাবিত হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের পরিষেবা শুরু করা হবে।”
কুয়াশা ও যান্ত্রিক ত্রুটি—এই দুই ভিন্ন পরিস্থিতি ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল শীতের মরশুমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে। যাত্রীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি বিমান সংস্থাগুলির উপর চাপ বাড়ছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার।










