ওষুধ আমদানিতে পাকিস্তান থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারতে আশ্রয় কাবুলিওয়ালাদের

কাবুল: আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী মাওলভি নূর জালাল জালালি এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে (Afghanistan pharmaceutical supply)স্পষ্ট করে দিলেন দেশটির ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের ফার্মাসিউটিক্যাল বাজারের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
afghanistan-pharmaceutical-supply-shift-india-pakistan-relations

কাবুল: আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী মাওলভি নূর জালাল জালালি এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে (Afghanistan pharmaceutical supply)স্পষ্ট করে দিলেন দেশটির ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের ফার্মাসিউটিক্যাল বাজারের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করত পাকিস্তান। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতার কারণে সেই সম্পর্ক কার্যত ভেঙে পড়েছে। আর সেই শূন্যস্থান পূরণে আফগানিস্তান এখন নতুন বিকল্পের দিকে তাকাচ্ছে, যেখানে ভারতের নাম উঠে আসছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে।

জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক বর্তমানে “অবনতির পথে”। সীমান্ত সমস্যা, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে ওষুধ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আফগান জনগণের স্বাস্থ্য পরিষেবায়। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আফগান সরকার বাধ্য হয়েছে বিকল্প দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে।

   

সেনা নাগরিক দ্বন্দে সংকটে পাকিস্তান

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জালালি বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শক্তিশালী। আমরা সহযোগিতা ও সমন্বয়ের একটি নতুন অধ্যায় খুলতে এসেছি।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, আফগানিস্তান ভারতের ওষুধ শিল্প ও চিকিৎসা দক্ষতার উপর আস্থা রাখছে। ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের অন্যতম বড় কেন্দ্র, যা তুলনামূলক কম খরচে উন্নতমানের ওষুধ সরবরাহ করতে সক্ষম।

মন্ত্রী আরও বলেন, একজন জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাছে একটাই শত্রু রোগ। সেই রোগকে মোকাবিলা করতে যদি যে কোনও দেশের সাহায্য লাগে, তিনি পিছপা হবেন না। এই বক্তব্যে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। রাজনীতি বা কূটনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘোষণার কূটনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। পাকিস্তানের উপর নির্ভরতা কমিয়ে আফগানিস্তান যদি ভারতের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও ওষুধ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ায়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণেও তার প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে এটি ভারতের জন্যও একটি বড় সুযোগ আঞ্চলিক স্তরে ‘হেলথকেয়ার পার্টনার’ হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, চিকিৎসকের অভাব এবং ওষুধ সংকট সব মিলিয়ে জনস্বাস্থ্য খাত এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় নির্ভরযোগ্য ও ধারাবাহিক ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে এই সহযোগিতা বাস্তব রূপ পেলে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য তা স্বস্তির খবর হতে পারে। পাশাপাশি এটি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েনের মাঝেও মানবিক প্রয়োজন অনেক সময় নতুন বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার পথ খুলে দেয়। সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়া আফগানিস্তানের এই নতুন অবস্থান শুধু কূটনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে এক বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.