নতুন স্বপ্ন, নতুন লড়াই আর ঘুরে দাঁড়ানোর জেদ নিয়েই মাঠে নামতে চলেছে ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল। সাম্প্রতিক ব্যর্থতার হতাশা কাটিয়ে এবার নিজেদের প্রমাণ করার মঞ্চ ফিফা উইমেন্স সিরিজ ২০২৬। দূর আফ্রিকার মাটিতে, নাইরোবির নিয়ায়ো ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে স্বাগতিক কেনিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ দিয়েই শুরু হচ্ছে ভারতের এই যাত্রা—যেখানে জয়ের থেকেও বড় হয়ে উঠেছে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই।
ভারতীয় দলের দায়িত্বে এবার আবার ফিরেছেন ক্রিস্পিন চেত্রী। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কোস্টারিকার আমেলিয়া ভালভার্দের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ভারতীয় ফুটবল সংস্থা। তার পরই আবার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন চেত্রী। তবে সাম্প্রতিক সময়টা খুব একটা ভালো যায়নি ভারতের জন্য। শেষ পাঁচটি ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি দল, তাই ২০২৬ সালে প্রথম জয়ের খোঁজে নামতে চলেছে ‘ব্লু টাইগ্রেস’রা।
অন্যদিকে কেনিয়ার অবস্থাও খুব একটা আলাদা নয়। ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বেনিন ও আইভরি কোস্টের কাছে পরাজিত হয়েছে কেনিয়া। তবে গত বছর তাদের পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালের সেকাফা চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্য পদক জেতে তারা, যেখানে দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও বুরুন্ডির মতো দলকে হারিয়ে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করেছিল। এছাড়া ২০২৬ সালের উইমেন্স আফকনেও জায়গা করে নিয়েছে কেনিয়া, যেখানে তাদের গ্রুপে রয়েছে শক্তিশালী মরক্কো, আলজেরিয়া ও সেনেগাল।
কেনিয়া দলের কোচ বেলডিন ওডেম্বা, যিনি একসঙ্গে একাধিক দায়িত্ব সামলানোর জন্য পরিচিত। তিনি কেনিয়া পুলিশ বুলেটস দলের কোচ হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় দল ‘হারামবি স্টারলেটস’-কেও পরিচালনা করছেন। অন্যদিকে ভারতীয় কোচ ক্রিস্পিন চেত্রী এই সিরিজে বেশ কিছু নতুন মুখকে সুযোগ দিয়েছেন। নিয়মিত গোলরক্ষক পন্থোই চানুর অনুপস্থিতিতে গোলবারের দায়িত্ব সামলানোর বড় সুযোগ পেতে চলেছেন শ্রেয়া হুডা। এই ম্যাচে ভারতের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অনুপস্থিত থাকবেন। সংগীতা বাসফোর, মনীষা কল্যাণ এবং গ্রেস ডাংমেইয়ের মতো তারকারা দলে নেই। ফলে তরুণ ফুটবলারদের সামনে নিজেকে প্রমাণ করার বড় সুযোগ এসেছে।
নতুনদের জন্য এটি হতে পারে নিজেদের জায়গা পাকা করার মঞ্চ।ভারত তাদের অভিযান শুরু করবে ১১ এপ্রিল ২০২৬, ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচারিত হবে ফিফা প্লাস ওয়েবসাইট এবং অ্যাপে, ফলে দেশের এবং বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা সহজেই এই ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। সব মিলিয়ে, এই ম্যাচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং দুই দলের জন্যই নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগ। তরুণদের ওপর ভরসা রেখে ভারত কি জয়ের মুখ দেখবে, নাকি স্বাগতিক কেনিয়া নিজেদের মাঠে শক্তি দেখাবে—সেই উত্তর মিলবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।




















