আরও চওড়া হল ফাটল! দল ছাড়লেন প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী

হুগলি: সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে হুগলির জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর কাছে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে আর রাজনৈতিক ময়দানে দেখা যায়নি, এমনকি ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
snehasis chakraborty quits active politics

হুগলি: সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে হুগলির জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর কাছে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে আর রাজনৈতিক ময়দানে দেখা যায়নি, এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা দলীয় কর্মসূচিতেও তিনি গরহাজির ছিলেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে পাকাপাকিভাবে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। (snehasis chakraborty quits active politics)

বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে ক্ষোভ

নিজের এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও দল পরিচালনার ধরন আমার ভাবনার সঙ্গে আর মেলে না। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের উন্নয়ন। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক বিরোধিতা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা এবং অশালীনতার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।” এই ধরনের রাজনীতির সঙ্গে তিনি আর কোনওভাবেই নিজেকে যুক্ত রাখতে চান না বলে সাফ জানিয়েছেন।

   

তৃণমূলের সাংগঠনিক খামতি নিয়ে সরব

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নির্বাচনী পরাজয় নিয়ে নজিরবিহীনভাবে মুখ খুলেছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। দলের অন্দরের খামতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের হয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও, জেলা স্তরের নেতৃত্ব ও কর্মীদের সঙ্গে আরও বেশি সরাসরি যোগাযোগ থাকলে নির্বাচনী পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতে পারত৷ তাঁর দাবি, দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের পক্ষে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছনো সম্ভব হতো না, যা সংগঠনের একটি বিরাট বড় ঘাটতি ছিল।

এর পাশাপাশি দলের অন্দরে বিধায়ক ও সাংসদদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের পরিসর অত্যন্ত সীমিত ছিল বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের নানা পদ নিয়ে নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া মূলত দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেন প্রাক্তন মন্ত্রী৷

শুভেন্দু সরকারের প্রাপ্তি ও নিজের কাজের মূল্যায়ন

রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার এবং ক্ষমতার পরিবর্তন প্রসঙ্গেও এদিন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন স্নেহাশিস। তিনি বলেন, “মানুষ vote দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় এনেছেন। নতুন সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। মানুষের প্রত্যাশা তারা কতটা পূরণ করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়”।

একই সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে নিজের বিগত তিন বছরের কাজের খতিয়ান দিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর আমলে পরিবহণ দফতরের রাজস্ব প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৭০০ কোটির গণ্ডি অতিক্রম করেছিল। আগামী দিনে পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি তিনি পুরোপুরি লেখালেখি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে মনোনিবেশ করবেন বলে জানিয়েছেন।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google