‘সময়ই সব উত্তর দেবে’, মমতাকে নিয়ে বাবুলের পোস্টে নতুন প্রশ্ন

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ  বাবুল সুপ্রিয়ের (Babul supriyo) একটি দীর্ঘ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে করা ওই পোস্টে তিনি দলের ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
babuls-remark-on-mamata-triggers-political-buzz-across-bengal

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ  বাবুল সুপ্রিয়ের (Babul supriyo) একটি দীর্ঘ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে করা ওই পোস্টে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তোলেন। (Babul supriyo) একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পোস্টের শুরুতেই বাবুল (Babul supriyo) দলত্যাগী জনপ্রতিনিধিদের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাঁর বক্তব্য স্পষ্টভাবেই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বাবুলের দাবি, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতীক, নেতৃত্ব ও সংগঠনের সমর্থনে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর যদি কোনও জনপ্রতিনিধি দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেন, তাহলে তাঁর সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়া উচিত। নিজের রাজনৈতিক জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি লেখেন, বিজেপি ছাড়ার সময় তিনি শুধু দল ত্যাগ করেননি, সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শ পরিবর্তন করা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সেই পরিবর্তনের নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে নির্বাচিত পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত। এতে ভোটারদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।

   

তবে পোস্টের সবচেয়ে আলোচিত অংশটি ছিল দুর্নীতি প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য। বাবুল লেখেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর এবং আপসহীন পদক্ষেপ নিতেন, তাহলে আজকের পরিস্থিতি হয়তো অন্য রকম হতে পারত। যদিও তিনি সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট করে দেন যে এটি তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত এবং দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, বাবুলের এই বক্তব্য তৃণমূলের অন্দরে চলা বিভিন্ন আলোচনা ও মতবিরোধেরই ইঙ্গিত বহন করছে। আবার অন্যদের মতে, এটি শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক কর্মীর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, যার সঙ্গে দলের নীতিগত অবস্থানের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

পোস্টে আরও একটি (Babul supriyo) রহস্যময় মন্তব্য করেন বাবুল। তিনি লেখেন, অতীতে যাঁদের নিয়ে নানা বিতর্ক ছিল, তাঁদের অনেকেই এখন তথাকথিত ‘৬০’-এর অংশ হয়ে গিয়েছেন। তবে ‘৬০’ বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। এই শব্দবন্ধ ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এটি কোনও গোষ্ঠী, রাজনৈতিক সমীকরণ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে করা ইঙ্গিত হতে পারে। শুধু তাই নয়, তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সেই সময়ের কিছু ব্যক্তি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ বর্তমানে কারাগারেও রয়েছেন। যদিও তিনি কোনও নাম প্রকাশ করেননি, তবুও তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং রাজনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে।

পোস্টের শেষাংশে বাবুল লেখেন, সময়ই সব প্রশ্নের উত্তর দেবে। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহ মন্তব্যই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাবুলের বক্তব্যে সরাসরি আক্রমণ না থাকলেও একাধিক বার্তা লুকিয়ে রয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, বাবুল সুপ্রিয়ের এই মন্তব্যের পর তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কি না এবং তাঁর পোস্ট ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক জল্পনা আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়।

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google