নয়াদিল্লি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক যুগান্তকারী বাণিজ্যিক চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে ভারত। এই চুক্তির ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় রফতানি পণ্যের ওপর শুল্ক বা ট্যারিফ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গতকাল এক সাক্ষাৎকারে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় ভারত আমেরিকার কাছ থেকে ধাপে ধাপে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
উচ্চ-প্রযুক্তি এবং জ্বালানি আমদানিতে জোর
গোয়েল বলেন, ভারত মূলত উচ্চ-মূল্যের পণ্য আমদানিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দেবে। এর মধ্যে রয়েছে-উন্নত আইসিটি (ICT) পণ্য এবং জিপিইউ (GPUs)। কোকিং কোল সহ জ্বালানি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ইতিমধ্যেই ৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বিমান ও সরঞ্জামের অর্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শুল্ক কাঠামো: ভারতের রফতানিতে বড় স্বস্তি India-USA Trade Deal
হোয়াইট হাউস থেকে আগামী সপ্তাহে একটি বিশেষ নির্বাহী আদেশ জারি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ভারতীয় পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস করে ১৮ শতাংশে আনা হবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামোর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা হল-
১. শুল্কমুক্ত সুবিধা: ভারতের মোট রপ্তানির প্রায় ৫০ শতাংশ পণ্য মার্কিন বাজারে কোনো শুল্ক ছাড়াই প্রবেশাধিকার পাবে।
২. পছন্দসই ট্যারিফ: প্রায় ৩৫ শতাংশ পণ্যের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্ক ধার্য হবে।
৩. নির্দিষ্ট খাতের বিধিনিষেধ: স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো ১০-১৫ শতাংশ পণ্য সেকশন ২৩২ ট্যারিফের আওতাধীন থাকবে, যা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
“রেড লাইন” সুরক্ষিত: কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত
বিরোধী দলের সমালোচনা নাকচ করে মন্ত্রী গোয়েল জোর দিয়ে বলেন, ভারতের “রেড লাইন” বা সংবেদনশীল খাতগুলো পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। দুগ্ধজাত পণ্য, পোল্ট্রি, মাংস, চাল, গম, চিনি এবং সমস্ত জিএম (GM) পণ্য এই বাণিজ্য চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
দেশীয় আপেল চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে। আমদানিকৃত মার্কিন আপেলের ওপর ৮০ টাকার নূন্যতম আমদানি মূল্য এবং ২০ টাকা শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অন্য দেশ থেকে আসা আপেলের তুলনায় মূল্যের দিক থেকে ৩৩ শতাংশ বেশি।
MSME এবং শ্রমনিবিড় খাতের সুদিন
এই চুক্তির ফলে ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং শ্রমনিবিড় খাতগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। টেক্সটাইল, চামড়া, পাদুকা, হস্তশিল্প এবং হস্ততাঁত পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, কৃষি ও মৎস্য পণ্য রপ্তানি ৫৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ভূ-রাজনীতি ও ফার্মাসিউটিক্যালস
রাশিয়া থেকে তেল কেনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী গোয়েল স্পষ্ট করেন যে, এটি এই বাণিজ্য চুক্তির অংশ নয়। এছাড়া, জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যালস এবং উপাদানের ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার আশ্বাস মিলেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।




















