চিন-রাশিয়ার বন্ধু মোদী, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সংঘাত বন্ধে ট্রাম্পের ইঙ্গিত

India-US trade: ট্রাম্পকে ক্ষমতায় দেখতে চেয়ে মার্কিন দেশ সফর সরাসরি আহ্বান জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই বন্ধুত্বে চিড় ধরে ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার সরকারের শুল্ক নীতি। যার জেরে ভারত-মার্কিন ...

By Rana Das

Published:

Updated:

Follow Us
Piyush Goyal Slams EU Over FTA Talks

India-US trade: ট্রাম্পকে ক্ষমতায় দেখতে চেয়ে মার্কিন দেশ সফর সরাসরি আহ্বান জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই বন্ধুত্বে চিড় ধরে ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার সরকারের শুল্ক নীতি। যার জেরে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কে বিরাট ধাক্কা। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে দোস্তি বাড়িয়েছেন মোদী। ভারতের এই কূটনৈতিক অবস্থানের পর ট্রাম্প সরকার ফের সহজ সম্পর্ক গড়তে মরিয়া।

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তিনি আশাবাদী যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) এই বছরের শরৎকাল, অর্থাৎ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হবে।

   

তিনি উল্লেখ করেন, আলোচনার সময় কিছুটা ভূ-রাজনৈতিক বিষয় বাণিজ্য ইস্যুকে ছাপিয়ে গেছে। মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের বার্ষিক গ্লোবাল ইনভেস্টর কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখার সময় গোয়েল বলেন, “আমি আশাবাদী যে খুব শীঘ্রই সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে এবং আমাদের দুই নেতার ফেব্রুয়ারি মাসের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নভেম্বর নাগাদ একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে উপনীত হতে পারব।”

তিনি বলেন, “আমাদের আলোচনায় কিছুটা ভূ-রাজনৈতিক বিষয় বাণিজ্য ইস্যুর চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।”

মন্ত্রী জানান, ভারত ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), মরিশাস, ইংল্যান্ড এবং চার-দেশীয় ইউরোপীয় ব্লক EFTA-র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর করেছে।

গোয়েল বলেন, “অনেক কিছু হয়েছে, আরও অনেক কিছু বাকি। … মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি,” তিনি একই দিন এক শিল্প সংগঠনের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক অনুষ্ঠানে বলেন।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র মার্চ মাস থেকে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে এবং এখন পর্যন্ত পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে। ষষ্ঠ দফার আলোচনার জন্য একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল ২৫ আগস্ট ভারতে আসার কথা ছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্র ২৭ আগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় সেই সফর স্থগিত করা হয়েছে। নতুন আলোচনার তারিখ এখনও ঠিক হয়নি।

দুই দেশই BTA-এর প্রথম ধাপ এই শরতে শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যার উদ্দেশ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য (পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে) ১৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া।

সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে শেষ পর্যন্ত দুই দেশ তাদের মতপার্থক্য মেটাতে পারবে।

তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) শীর্ষ সম্মেলন শেষে বেসেন্ট বলেন, “আমার মনে হয়, দিনের শেষে, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল গণতন্ত্র। তাদের মূল্যবোধ আমাদের এবং চিনের কাছাকাছি, রাশিয়ার চেয়ে নয়। আমি মনে করি, দুই মহান দেশ (ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) এই সমস্যা সমাধান করবে। তবে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে তা পুনরায় বিক্রি করে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থায়ন করছে এটা ঠিক ভালো ভূমিকা নয়।”

ভারত জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশের জাতীয় স্বার্থ ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে, এবং এ বিষয়ে তারা তাদের অবস্থানে অটল। বেসেন্টের এই মন্তব্য এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর, যেখানে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে রাশিয়ান তেল কেনার কারণে। ভারত এই সিদ্ধান্তকে “অযৌক্তিক ও অন্যায্য” বলে অভিহিত করেছে।

চলমান অস্থিরতা সম্পর্কে মন্তব্য করে গোয়েল বলেন, “বিশ্ব বর্তমানে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।” তবে তিনি আরও বলেন, “এটি একটি অর্ধেক ভর্তি গ্লাসের গল্প চ্যালেঞ্জ থাকলেও, সেখানেই ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।”

Rana Das

Rana Das pioneered Bengali digital journalism by launching eKolkata24.com in 2013, which later transformed into Kolkata24x7. He leads the editorial team with vast experience from Bartaman Patrika, Ekdin, ABP Ananda, Uttarbanga Sambad, and Kolkata TV, ensuring every report upholds accuracy, fairness, and neutrality.

Follow on Google