
নয়াদিল্লি: আকাশসীমার সুরক্ষাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবং ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনের ঘাটতি মেটাতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য আরও ১১৪টি ‘রাফাল’ মাল্টিরোল ফাইটার জেট কেনার লক্ষ্যে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ (LoR) চূড়ান্ত করে ফেলেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এক নামী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই আনুষ্ঠানিক চিঠি ফ্রান্স সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভারতের এই মেগা ডিফেন্স ডিলের সবচেয়ে বড় চমক, ১১৪টি বিমানের মধ্যে প্রায় ৯০টি রাফাল যুদ্ধবিমান তৈরি হবে খোদ ভারতেই। ফরাসি বিমান নির্মাতা সংস্থা ‘ডাসো অ্যাভিয়েশন’ (Dassault Aviation) একটি ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে এগুলি তৈরি করবে। বাকি ২৪টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে উড়ন্ত অবস্থায় (Fly-away condition) ভারতে আসবে। (India To Buy 114 Rafale Fighter Jets Under Make In India)
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর হিরো এবার দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, নতুন এই চুক্তিতে প্রায় ৫০ শতাংশ দেশীয় প্রযুক্তি বা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে। শুধু তাই নয়, ভারত এই বিমানের ‘ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্টস’-এর প্রযুক্তিগত ব্লু-প্রিন্ট পাওয়ার জন্য ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এটি সম্ভব হলে ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমানে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘অস্ত্র’ (Astra) এবং ‘ব্রহ্মোস’ (BrahMos) ক্ষেপণাস্ত্র অনায়াসে যুক্ত করা যাবে। উল্লেখ্য, গত বছর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চালানো ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ এই রাফালই ছিল ভারতের প্রধান ‘হিরো’। চিনের তৈরি পাক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে সম্পূর্ণ ফাঁকি দিয়ে স্কাল্প-ইজি (SCALP-EG) ক্রুজ মিসাইল এবং হ্যামার (HAMMER) প্রিসিশন গাইডেড বোমা নিয়ে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে পাকিস্তানের গভীরে ঢুকে নিখুঁত এয়ার স্ট্রাইক ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার অপারেশন চালিয়েছিল এই যুদ্ধবিমান।
স্কোয়াড্রনের ঘাটতি মেটাবে রাফাল
বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনায় অনুমোদিত ৪২টি ফাইটার স্কোয়াড্রনের বিপরীতে মাত্র ২৯টি স্কোয়াড্রন সক্রিয় রয়েছে। ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার এয়ারক্রাফট বা ‘আমকা’ (AMCA) প্রজেক্ট ২০৩৫ সালের আগে বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই অন্তর্বর্তী সময়ে চিনের দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে রাফালকেই সবচেয়ে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য পথ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি। ইতিমধ্যেই বায়ুসেনার কাছে ৩৬টি রাফাল রয়েছে এবং নৌসেনার এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের জন্য আরও ২৬টি ‘রাফাল-এম’ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। যেহেতু ভারতে ইতিমধ্যেই রাফালের পরিকাঠামো ও লজিস্টিকস মজুত রয়েছে, তাই নতুন ১১৪টি বিমান এলে পাইলটদের ট্রেনিং ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে।
আগামী মাসের শুরুতেই ভারতের বায়ুসেনা প্রধান এ পি সিং ফ্রান্স সফরে যাচ্ছেন। এর পরেই জুনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও ফ্রান্স সফরের কথা রয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে চাইছে ভারত সরকার। পাশাপাশি বায়ুসেনার জন্য রাশিয়ার তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সুখই-৫৭ (Su-57) কেনার বিকল্পও খোলা রাখছে সাউথ ব্লক।













