ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে কাদের বিরাগভাজন হল ভারত?

নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে ফের নিজের স্বাধীন অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত (Iran)। ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র সংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে (UN Human Rights Council) পশ্চিমা দেশগুলির সমর্থিত একটি প্রস্তাবের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
india-supports-iran-unhrc-vote-foreign-policy

নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে ফের নিজের স্বাধীন অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত (Iran)। ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র সংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে (UN Human Rights Council) পশ্চিমা দেশগুলির সমর্থিত একটি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিল নয়াদিল্লি।

ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে “উদ্বেগ” প্রকাশ করা ওই প্রস্তাবে ভারতের ‘NO’ ভোট আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে ভারত কাদের বিরাগভাজন হল, আর কাদের কাছে বার্তা পৌঁছল?

   

বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বাংলায় হায়দরাবাদ মডেলের ঘোষণা মিমের

এই প্রস্তাবটি মূলত পশ্চিমা শক্তিগুলির উদ্যোগে আনা হয়েছিল, যেখানে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার ইস্যুকে সামনে আনা হয়। কিন্তু ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়কে হাতিয়ার করে সিলেক্টিভ হিউম্যান রাইটস ন্যারেটিভ চাপিয়ে দেওয়া তারা সমর্থন করে না। নয়াদিল্লির অবস্থান মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু তা যেন রাজনৈতিক চাপ তৈরির মাধ্যম না হয়।

এই ভোটাভুটিতে ভারতের সঙ্গে ইরানের পাশে দাঁড়ায় একাধিক দেশ। তালিকায় রয়েছে চীন, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, কিউবা এবং ভিয়েতনামের মতো দেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জোট কোনও আদর্শগত ঐক্যের চেয়ে অনেক বেশি করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘নন-ইন্টারফিয়ারেন্স’ বা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিফলন।

কূটনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে ভারতের ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’-র আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে যেমন ভারত আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে, তেমনই অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান নিজেই নির্ধারণ করছে। পশ্চিমা ব্লকের চাপ সত্ত্বেও সব বিষয়ে তাদের লাইনে হাঁটবে না এই বার্তাই ফের একবার দিয়ে দিল ভারত।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই ভোটের ফলে পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে সাময়িক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মানবাধিকার ইস্যুতে ইউরোপ ও আমেরিকার অবস্থানের সঙ্গে ভারতের এই ভিন্নমত ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনায় উঠে আসতে পারে। তবে ভারতের কূটনৈতিক ইতিহাস বলছে, এমন অস্বস্তি সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদে নয়াদিল্লি নিজের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছে।

ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বরাবরই কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। জ্বালানি নিরাপত্তা, চাবাহার বন্দর, মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ এই সব ক্ষেত্রেই ইরান ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সেই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রসংঘে এই অবস্থানকে অনেকেই দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবেও দেখছেন।

একই সঙ্গে ভারত যে পাকিস্তানের মতো দেশের সঙ্গে একই ভোটে অবস্থান নিল, তা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনও নির্দিষ্ট ইস্যুতে একই লাইনে ভোট দেওয়া মানেই বৃহত্তর কৌশলগত ঐক্য নয়। বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিষয়ভিত্তিক অবস্থান নেওয়ার উদাহরণ।

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ইরান ইস্যুতে ভারতের ‘NO’ ভোট আবারও দেখিয়ে দিল ভারত কারও ছায়ায় চলে না। পশ্চিমা চাপ থাকলেও নয়াদিল্লি নিজের স্বাধীন বিদেশনীতিতেই বিশ্বাসী। আর এই অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা যেমন বাড়ায়, তেমনই তাকে কখনও কখনও বিতর্কের কেন্দ্রেও নিয়ে আসে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google