নয়াদিল্লি, ২০ মার্চ: ৯ই মার্চ থেকে ভারত ও সেশেলসের মধ্যে অনুষ্ঠিত যৌথ সামরিক মহড়া ‘লামিতিয়ে ২০২৬’ (LAMITIYE 2026) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে (India-Seychelles Joint Military Exercise)। এটি ছিল এই মহড়ার একাদশতম সংস্করণ, যার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অভিযানগত সক্ষমতা জোরদার করা। ক্রেওল ভাষায় ‘লামিতিয়ে’ শব্দের অর্থ বন্ধুত্ব, যা ভারত-সেশেলসের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে।
তিন বাহিনীরই অংশগ্রহণ
এই মহড়ায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং সেশেলস প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিয়েছিলেন। সেশেলস কোস্ট গার্ড, বিমান বাহিনী এবং বিশেষ অভিযান ইউনিটের পাশাপাশি ভারতীয় দলও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। সামুদ্রিক অভিযানের জন্য আইএনএস ত্রিকান্ডকেও মোতায়েন করা হয়েছিল।
স্থল ও সমুদ্রে মহড়া
মহড়া চলাকালীন, উভয় দেশের সেনাবাহিনী যৌথভাবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে:
- যৌথ অভিযান কেন্দ্র স্থাপন আধা-শহুরে এলাকায় তল্লাশি অভিযান ও ঘেরাও মহড়া
- সুনির্দিষ্ট আক্রমণ (Precision Assault)
- সমুদ্রে ভিবিএসএস VBSS (Visit, Board, Search and Seizure) অভিযান
এই অভিযানগুলিতে ভারতীয় নৌবাহিনীর মার্কোস কমান্ডো এবং সেশেলসের বিশেষ ইউনিট একসঙ্গে কাজ করেছিল, যার ফলে উভয়ের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় সাধিত হয়েছিল।
৭২-ঘণ্টার উচ্চ-তীব্রতার চূড়ান্ত পর্ব
প্র্যাসলিন দ্বীপে এই মহড়ার চূড়ান্ত পর্বটি ৭২ ঘণ্টা ধরে চলেছিল এবং এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল:
- যৌথ উভচর অভিযান (সমুদ্র-ভিত্তিক আক্রমণ)
- ড্রোন (ইউএভি) ব্যবহার করে নজরদারি
- শত্রু অবস্থানে যৌথ অভিযান
- আহতদের স্থানান্তর (Casualty Evacuation)
আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার হবে
লামিতিয়ে ২০২৬ প্রমাণ করেছে যে, ভারত ও সেশেলস ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতার প্রতি সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই মহড়াটি শুধু সামরিক সক্ষমতা বাড়াতেই সাহায্য করেনি, বরং দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে আস্থা ও সম্পর্ককেও শক্তিশালী করেছে। লামিতিয়ে ২০২৬ হলো ভারত-সেশেলস বাড়তে থাকা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি শক্তিশালী উদাহরণ, যা ভবিষ্যতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




















