সুপ্রিম কোর্টে পিছল আইপ্যাক মামলার শুনানি

নয়াদিল্লি: পিছিয়ে গেল আইপ্যাক মামলার শুনানি৷ আর্থিক তছরুপের মামলায় আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবন ও দফতরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তল্লাশি অভিযান এবং তাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নজিরবিহীন সংঘাতের ...

By Moumita Biswas

Published:

Updated:

Follow Us
I-PAC case hearing postponed

নয়াদিল্লি: পিছিয়ে গেল আইপ্যাক মামলার শুনানি৷ আর্থিক তছরুপের মামলায় আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবন ও দফতরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তল্লাশি অভিযান এবং তাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নজিরবিহীন সংঘাতের পর, মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ইডি-র কাজে বাধা দেওয়া এবং নথি কেড়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে৷ ইডি অভিযানে ‘রাজ্যের বেআইনি হস্তক্ষেপ’ -এর অভিযোগে তোলপার হয় গোটা দেশ৷ মঙ্গলবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানি ছিল। তবে ইডি-র আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি পিছিয়ে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার পরবর্তী দিন ধার্য করেছে শীর্ষ আদালত।

ইডি-র আর্জি ও আদালতের পদক্ষেপ

মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই কেন্দ্রীয় সরকারের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, সোমবার রাজ্যের তরফে যে হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য ইডি-র কিছুটা সময় প্রয়োজন। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও একটি পাল্টা হলফনামা (Rejoinder) জমা দিতে চায়। ইডি-র পক্ষ থেকে শুনানি স্থগিতের আবেদন করা হলে বিচারপতি মিশ্রের বেঞ্চ রাজ্যের মতামত জানতে চায়। রাজ্য সরকার এই প্রস্তাবে সম্মতি দিলে আদালত আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত শুনানি পিছিয়ে দেয়।

   

রাজ্যের পাল্টা যুক্তি ও মামলা খারিজের দাবি

সোমবার জমা দেওয়া হলফনামায় রাজ্য সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ইডি-র দায়ের করা এই মামলাটি সরাসরি খারিজের আবেদন জানিয়েছে রাজ্য। নবান্নের পক্ষ থেকে দেওয়া হলফনামায় প্রধানত তিনটি পয়েন্ট তুলে ধরা হয়েছে৷

মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন: রাজ্যের দাবি, সুপ্রিম কোর্টে এই ধরণের মামলা দায়ের করার কোনো মৌলিক অধিকার ইডি-র নেই।

পদ্ধতিগত ত্রুটি: কোনও আগাম নোটিস ছাড়াই কেন আইপ্যাকের দফতরে আচমকা তল্লাশি চালানো হল, সেই প্রশ্নও তুলেছে রাজ্য।

ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: রাজ্যের পাল্টা অভিযোগ, প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে ইডি-র অভিযান সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় বর্ণিত ‘জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার’-এর পরিপন্থী।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, প্রতীক জৈনের সংস্থায় তল্লাশি চলাকালীন সেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং তদন্তে বাধার অভিযোগ তুলে সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ ছিল, রাজ্য প্রশাসন বেআইনিভাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে হস্তক্ষেপ করেছে এবং নথি কেড়ে নিয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি ফের এই মামলার শুনানি হবে। সেদিন ইডি রাজ্যের হলফনামার জবাবে কী পাল্টা যুক্তি দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সারা দেশের।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google