গুয়াহাটি: অসমের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। ৭ ফেব্রুয়ারি সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বিরোধী দল কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা ভূপেন বরা ও প্রবীণ নেতা দেবব্রত সাইকিয়ার বিরুদ্ধে “অশোভন ও অগ্রহণযোগ্য” আচরণের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, জনসংযোগের সময় তাঁদের একটি অঙ্গভঙ্গি অসমের নারী ও কিশোরীদের অনুভূতিতে গভীর আঘাত দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি তিনি “দুঃখের সঙ্গে” প্রকাশ্যে আনছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই অঙ্গভঙ্গি কেবল অশালীনই নয়, বরং কল্পনারও অতীত। তিনি বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জানাবেন, তবে প্রাথমিকভাবে যে তথ্য তাঁর হাতে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আরও দেখুক: বিশ্বকাপের অভিযান শুরুতেই আচমকা অসুস্থ তারকা পেসার! বদলিতে কে?
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দাবি, ওই অঙ্গভঙ্গি এমনভাবে করা হয়েছে, যা অসমের নারীদের সম্মানহানির শামিল। তাঁর বক্তব্য, জনজীবনে এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কংগ্রেস যদি এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে অসমের সমাজ তাদের মেনে নেবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ঘটনার ভিডিও নাকি দিল্লি থেকেও তাঁর কাছে পৌঁছেছে। সেখানে নাকি প্রশ্ন উঠেছে অসমে কি এ ধরনের আচরণ এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে? তিনি বলেন, ফুটেজটি দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত হয়েছেন এবং এতে কংগ্রেস নেতৃত্বের মানসিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, রাস্তার ধারে কিছু মানুষের স্লোগানের প্রতিক্রিয়ায় ওই অঙ্গভঙ্গি করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁর দাবি, সম্ভবত কয়েকজন মহিলা কংগ্রেসকে ভোট না দেওয়ার কথা বলছিলেন, তারই প্রতিক্রিয়ায় এই আচরণ করা হয়। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, কোনো উসকানিই সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের এমন আচরণের ন্যায্যতা দিতে পারে না।
মুখ্যমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেন যে ঘটনাটির ভিডিও এখনও টেলিভিশন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তেমনভাবে প্রকাশ পায়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত গুরুতর বিষয় হওয়া সত্ত্বেও কেন এটি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। তাঁর মতে, বিরোধী দলনেতা ও প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি, সঙ্গে একজন মহিলা কংগ্রেস নেত্রী এই তিনজনের নাম এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “কংগ্রেস তাদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।” যদিও তিনি ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই বলে দাবি করেন, তবু এই ধরনের মানসিকতা নিয়ে রাজনীতিতে থাকা নেতাদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, এঁরাই ভবিষ্যতে নারীকল্যাণ বা সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী হতে চান, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।
এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে অসম রাজ্য মহিলা কমিশনের কাছে ভিডিওটি পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। তিনি কমিশনকে বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এটি নারীর সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুতর বিষয়, তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্বারা তা খতিয়ে দেখা জরুরি। অন্যদিকে, এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে এই বিতর্কের পরবর্তী মোড় কোন দিকে যাবে।




















