গেরুয়া সরকারের বুলডোজারে ধ্বংস হরিদ্বারের অবৈধ মসজিদ

উত্তরাখন্ড: উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযানে ভেঙে ফেলা হল একটি অবৈধ মসজিদ কাঠামোকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক (illegal mosque demolition)। সুমন নগর এলাকায় সরকারি…

haridwar-illegal-mosque-demolition-anti-encroachment-drive-suman-nagar

উত্তরাখন্ড: উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযানে ভেঙে ফেলা হল একটি অবৈধ মসজিদ কাঠামোকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক (illegal mosque demolition)। সুমন নগর এলাকায় সরকারি জমির উপর বেআইনিভাবে নির্মিত এই স্থাপনার বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই অভিযোগ জমা পড়ছিল বলে দাবি প্রশাসনের। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই জেলা প্রশাসন সম্প্রতি একটি অবৈধ জমি অধিগ্রহণ বিরোধী অপারেশন চালিয়ে ওই কাঠামোটি গুঁড়িয়ে দেয়।

   

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জমিটি সরকারি এবং সেখানে কোনও ধরনের স্থায়ী নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তদন্তে উঠে আসে, নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনেই ওই স্থাপনা তৈরি করা হয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসন দাবি করেছে, একাধিকবার নোটিস দেওয়ার পরও কোনও সাড়া মেলেনি। ফলে আইন মেনেই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।

আরও দেখুনঃ আইপ্যাক মামলা ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি আজ

তবে এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, প্রশাসন যথেষ্ট সময় দেয়নি এবং আচমকা বুলডোজার চালিয়ে দেওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। অন্যদিকে, কিছু বাসিন্দা আবার প্রশাসনের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেছেন, সরকারি জমি দখল করে যে কোনও নির্মাণই বেআইনি এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে তা সর্বত্র সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে, বেছে বেছে নয়। অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন সবার জন্য সমান এবং যেখানে বেআইনি দখল বা নির্মাণ পাওয়া যাবে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা যে ধর্ম বা সম্প্রদায়েরই হোক না কেন।

প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই অভিযান কোনও বিশেষ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নয়, বরং বৃহত্তর অবৈধ জমি দখল বিরোধী অপারেশনের অংশ। শহরের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি জমি দখলমুক্ত করার জন্যই এই অভিযান চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলবে। হরিদ্বার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর হওয়ায় এখানে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলেও মত প্রশাসনের।

এদিকে, ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। প্রশাসন স্থানীয়দের শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে এবং আশ্বাস দিয়েছে যে আইন অনুযায়ীই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।