পাকিস্তানঃ গভীরতর জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ে কঠিন সিদ্ধান্তের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ঘিরে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশটির জ্বালানি পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি রেশনিং চালুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে জ্বালানি রেশনিং চালু করা হতে পারে। যদিও সরকার আপাতত মূল্যবৃদ্ধি এবং লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরাসরি রেশনিংয়ের পথে না গিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে ভর্তুকি দেওয়া তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প। তবে পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তার উপরই ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ভর করবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এখানে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। পাকিস্তান, যা তার মোট জ্বালানির ৮০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে, এই ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত দুর্বলতা এবং অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতার কারণে পাকিস্তানের জ্বালানি খাত এমনিতেই চাপের মধ্যে ছিল। তার উপর বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। ফলে দেশের অর্থনীতি, যা আগে থেকেই নড়বড়ে অবস্থায় ছিল, এখন আরও ঝুঁকির মুখে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যেই একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে দেশের স্কুলগুলো দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারি যানবাহনের জন্য জ্বালানি ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।




















