কলকাতা: নতুন শ্রম কোড বাতিল এবং কেন্দ্রের শ্রমিক-বিরোধী নীতির প্রতিবাদে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে দেশের একাধিক ব্যাঙ্কিং কর্মী সংগঠন। ইন্টাক (INTUC), এইটুক (AITUC), এইমস (HMS), সিটু (CITU)-সহ আরও বেশ কয়েকটি ট্রেড ইউনিয়ন সর্বসম্মতিক্রমে এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের পাশাপাশি একই দিনে ভারত বনধের ডাকও দেওয়া হয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলোর তরফে।
কী কী দাবিতে এই ধর্মঘট?
ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলো বেশ কিছু যৌক্তিক দাবিতে এই আন্দোলন শানিয়েছে। প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ বন্ধ: সরকারি ক্ষেত্রের ব্যাংক ও বিমা সংস্থাগুলোর বেসরকারিকরণ ও বিনিয়োগ বিক্রি (Disinvestment) অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
শ্রম আইন প্রত্যাহার: ২৯টি আইন বাতিল করে যে নতুন শ্রম কোড আনা হয়েছে, তার শ্রমিক-বিরোধী ধারাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।
পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ: দীর্ঘদিন ধরে চলা দাবি অনুযায়ী ব্যাঙ্কে সপ্তাহে দুদিন অর্থাৎ শনি ও রবিবার ছুটির দাবি জানানো হয়েছে।
FDI ও পেনশন: বিমা খাতে ১০০% FDI বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং NPS বাতিল করে OPS পুনরায় চালু করার দাবিও রয়েছে।
ব্যাঙ্ক পরিষেবা ও ATM-এ কী প্রভাব? February 12 nationwide bank strike
১২ ফেব্রুয়ারি ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের কারণে দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক পরিষেবা আংশিক ব্যাহত হতে পারে। চেক ক্লিয়ারেন্স, নগদ জমা এবং উত্তোলনে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একদিনের ধর্মঘটে ATM পরিষেবা খুব বেশি প্রভাবিত হবে না। সাধারণত পরপর বেশ কয়েকদিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকলে ATM-এ টাকার আকাল দেখা যায়, তবে আপাতত ATM পরিষেবা সচল থাকারই সম্ভাবনা বেশি।
বনধের প্রভাব পরিবহন ব্যবস্থায়
শুধুমাত্র ব্যাঙ্ক নয়, কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি ভারত বনধের ডাক দেওয়ায় জনজীবনেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় রেল ও বাস চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই গ্রাহক ও সাধারণ যাত্রীদের জরুরি কাজ থাকলে তা পূর্বেই পরিকল্পনা করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




















