
বলিউড পরিচালক বিক্রম ভট্ট ও তাঁর স্ত্রী শ্বেতাম্বরীকে ঘিরে বড়সড় আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ। প্রায় ৩০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হল এই দম্পতিকে। চিকিৎসাজনিত কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। ফলে সাত দিনের পুলিশ হেফাজত শেষে তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।
রাজস্থানের ডিএসপি সূর্যবীর সিংহ মঙ্গলবার সংবাদসংস্থা ANI-কে জানিয়েছেন, বিক্রম ভট্ট ও তাঁর স্ত্রীকে এখন উদয়পুরের কেন্দ্রীয় জেলে পাঠানো হবে।
কেন গ্রেফতার বিক্রম ভট্ট ও তাঁর স্ত্রী?
গত রবিবার, ৭ ডিসেম্বর মুম্বই থেকে বিক্রম ভট্ট ও শ্বেতাম্বরীকে গ্রেপ্তার করে রাজস্থান পুলিশ। পরদিন গভীর রাতে তাঁদের উদয়পুরে আনা হয়। ৮ ডিসেম্বর তাঁদের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হলে আদালত সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
এই মামলায় বিক্রম ভট্ট ও তাঁর স্ত্রীর পাশাপাশি আরও ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, তাঁরা মিলিতভাবে উদয়পুরের এক চিকিৎসক ডা. অজয় মুর্দিয়াকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা প্রতারণা করেছেন। ডা. মুর্দিয়া ইন্দিরা গ্রুপ অব কোম্পানিজ-এর প্রতিষ্ঠাতা।
স্ত্রীর বায়োপিকের প্রতিশ্রুতি, ২০০ কোটির স্বপ্ন
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়াত স্ত্রীর জীবনী নিয়ে একটি বায়োপিক তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন ডা. মুর্দিয়া। অভিযুক্তরা তাঁকে ওই ছবির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তবে বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। শেষ পর্যন্ত প্রতারিত হয়ে উদয়পুরের ভোপালপুরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ডা. মুর্দিয়া। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রতারণা ও অন্যান্য ধারায় এফআইআর দায়ের হয়।
চার ছবির চুক্তি, অভিযোগ ভুয়ো বিলের
সংবাদসংস্থা PTI-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এক পরিচিতের মাধ্যমে ডা. মুর্দিয়ার সঙ্গে অভিযুক্তদের পরিচয় হয়। মে মাসে বিক্রম ভট্ট দম্পতির সঙ্গে ৪৭ কোটি টাকার একটি চুক্তি হয়—চারটি ছবি নির্মাণের জন্য। এই চারটির মধ্যে একটি ছিল ডা. মুর্দিয়ার প্রয়াত স্ত্রীর বায়োপিক।
পুলিশ জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম দুটি ছবি তৈরি হলেও বাকি দুটি ছবি আর তৈরি হয়নি। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা ভুয়ো ভেন্ডরের নামে নকল বিল, অতিরঞ্জিত পারিশ্রমিক ভাউচার ও অন্যান্য জাল নথি তৈরি করে ধাপে ধাপে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
মামলার তদন্ত এখনও চলছে। আর্থিক লেনদেনের নথি, ব্যাংক ট্রানজ্যাকশন ও অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে এই বহুল আলোচিত প্রতারণা মামলা।










