অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: বলিউড অভিনেত্রী সোনি রাজ়দান (Soni Razdan) বহু বছর ধরেই সমান্তরাল ও মূলধারার সিনেমা, টেলিভিশন এবং থিয়েটারে কাজ করে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। তবে কেরিয়ারের শুরুর দিকে তাঁর একটি অপূর্ণ ইচ্ছার কথা সম্প্রতি সামনে এসেছে। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল-এর ছবিতে নিয়মিত কাজ করার জন্য তিনি নানা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ খুব বেশি পাননি বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
সোনি রাজ়দানের কথায়, তিনি নিজের চেহারাতেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন। তবুও পরিচালক তাঁকে শাবানা আজমি বা স্মিতা পাটিল-এর মতো চরিত্রে ভাবেননি।
চরিত্র পাওয়ার আশায় বদলে ফেলেছিলেন নিজের লুক
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সোনি রাজ়দান জানান, শ্যাম বেনেগালের সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি নিজের চেহারা বদলানোরও চেষ্টা করেছিলেন।
তাঁর কথায়, “আমি চুলে কালো রং করেছিলাম। যাতে আমাকে ওঁদের মতো দেখতে লাগে। সুতির শাড়ি পরতাম, রুপোর গয়না পরতাম। যা যা করার, সবই করেছি। কিন্তু তিনি আমাকে সেই চোখে দেখেননি। আর কী-ই বা করতে পারতাম! চেষ্টা করেছিলাম, ভাগ্যে ছিল না।”
কেন এমন মনে করেছিলেন সোনি?
অভিনেত্রীর মা ছিলেন জার্মান বংশোদ্ভূত। সেই কারণে তাঁর চেহারা শাবানা আজমি বা স্মিতা পাটিলের মতো নয় বলে তিনি মনে করতেন।
সোনির ধারণা ছিল, শ্যাম বেনেগালের ছবিতে যেসব চরিত্র দেখা যেত, সেগুলির জন্য নির্দিষ্ট ধরনের চেহারা ও ব্যক্তিত্বকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। তাই তিনি নিজের সাজপোশাকেও পরিবর্তন এনেছিলেন। তবে সেই চেষ্টা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি।
তবুও অভিনয় করেছিলেন বেনেগালের দুই ছবিতে
যদিও নিয়মিত সুযোগ পাননি, তবুও শ্যাম বেনেগালের পরিচালিত ‘মণ্ডী’ এবং ‘ত্রিকাল’ ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন সোনি রাজ়দান।
‘ত্রিকাল’ ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন লীলা নাইডু। অন্যদিকে ‘মণ্ডী’ ছিল একাধিক অভিনেতাকে নিয়ে তৈরি একটি বহুচর্চিত চলচ্চিত্র।
এই ছবিতে শাবানা আজমি, স্মিতা পাটিল, রত্না পাঠক, নীনা গুপ্ত, শ্রীলা মজুমদার, অনীতা কানওয়ার, ইলা অরুণ-সহ আরও বহু শিল্পী অভিনয় করেছিলেন।
শুটিং সেটের স্মৃতিও ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী
শ্যাম বেনেগালের ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সোনি রাজ়দান জানান, সেটে প্রতিটি শিল্পী নিজের চরিত্র নিয়ে অত্যন্ত মনোযোগী থাকতেন।
তাঁর মতে, পরিচালক প্রতিটি চরিত্রের উপর সমান গুরুত্ব দিতেন। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা নিজেদের দৃশ্য, সংলাপ এবং চরিত্রের গভীরতা নিয়ে আলোচনা করতেন। সেই কাজের পরিবেশ তাঁর কাছে এখনও বিশেষ স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
আজও রয়ে গেছে সেই আক্ষেপ
সোনি রাজ়দানের বক্তব্যে স্পষ্ট, শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে আরও বেশি কাজ করার ইচ্ছা তাঁর ছিল। সেই সুযোগ পুরোপুরি না পাওয়ার আক্ষেপ আজও তাঁর মনে রয়েছে।
তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, কেরিয়ারে চেষ্টা করেও সব সুযোগ পাওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও ‘মণ্ডী’ এবং ‘ত্রিকাল’-এর মতো উল্লেখযোগ্য ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।





