২০ লক্ষ পড়ুয়াকে ল্যাপটপ দেওয়ার ঘোষণা অবিজেপি রাজ্য সরকারের

tamil-nadu-government-free-laptop-scheme-20-lakh-students

অবিজেপি শাসিত তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) সরকার রাজ্যে উচ্চশিক্ষায় ডিজিটাল ক্ষমতায়ন বাড়াতে এক বড়সড় উদ্যোগের ঘোষণা করেছে। আগামী দু’বছরের মধ্যে রাজ্যের প্রায় ২০ লক্ষ পড়ুয়াকে বিনামূল্যে ল্যাপটপ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ‘উলাগাম উঙ্গাল কাইয়িল’ (বিশ্ব আপনার হাতের মুঠোয়) নামে এই প্রকল্পের সূচনা হয় ৫ জানুয়ারি ২০২৬। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের লক্ষ্য করেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য—ডিজিটাল শিক্ষা প্রসার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তি-দক্ষতা গড়ে তোলা এবং শহর-গ্রামের প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমানো।

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে ডিজিটাল দক্ষতা অপরিহার্য। অনলাইন রিসার্চ, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, প্রজেক্ট ও কোডিং—সব ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত কম্পিউটিং ডিভাইসের প্রয়োজন বেড়েছে। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বহু পড়ুয়া এখনও ল্যাপটপ কিনতে পারে না। সেই ফাঁক পূরণ করতেই এই উদ্যোগ। বিশেষ করে গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া এলাকার পড়ুয়াদের উপকার হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

   

উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি তামিলনাড়ুর জন্য নতুন কোনো ধারণা নয়। ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে রাজ্যে অনুরূপ একটি প্রকল্প চালু ছিল, যার আওতায় ৫১ লক্ষেরও বেশি ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়েছিল। শিক্ষা মহলের একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, সেই সময়ে ডিজিটাল সাক্ষরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল এবং গ্রামীণ পড়ুয়াদের স্বশিক্ষার সুযোগ অনেকাংশে প্রসারিত হয়। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি শিক্ষাবিষয়ক গবেষণায় দাবি করা হয়, ওই প্রকল্পের ফলে ডিজিটাল লিটারেসি প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং পড়ুয়ারা অনলাইন রিসোর্স ব্যবহারে বেশি আত্মনির্ভর হয়ে উঠেছিল।

নতুন প্রকল্পে সরকার শুধু হার্ডওয়্যার বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ল্যাপটপের পাশাপাশি AI, ডেটা অ্যানালিটিক্স, কোডিং ও ডিজিটাল স্কিল-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ মডিউল যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের মতে, আগামী দিনে চাকরির বাজারে টিকে থাকতে এই দক্ষতাগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতে রাজ্যের মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় ভূমিকা নেবে।

তবে এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭,৫০০ কোটি টাকা। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, রাজ্যের করদাতাদের টাকায় এত বড় খরচ আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক ধরনের জনমোহিনী প্রকল্প। তাঁদের দাবি, এই অর্থ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো বা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যয় করা হলে বেশি উপকার হতো।

অন্যদিকে, সরকারের সমর্থক ও শিক্ষাবিদদের একাংশের মত ভিন্ন। তাঁদের যুক্তি, শিক্ষায় বিনিয়োগ কখনও অপচয় নয়। ডিজিটালভাবে দক্ষ যুবসমাজ তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়বে, যা রাজ্যের GDP বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি-দক্ষ কর্মশক্তি তৈরি হলে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্টার্টআপ ক্ষেত্রেও তামিলনাড়ুর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও মজবুত হবে।

ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া মিশ্র। অনেকেই এটিকে পড়াশোনার ক্ষেত্রে বড় সহায়ক বলে স্বাগত জানিয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করছে, শুধু ল্যাপটপ দিলেই হবে না—ইন্টারনেট সংযোগ, মানসম্মত অনলাইন কনটেন্ট ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও সমানভাবে জরুরি।

সব মিলিয়ে, ২০ লক্ষ পড়ুয়াকে ল্যাপটপ দেওয়ার এই ঘোষণা তামিলনাড়ুর শিক্ষা ও রাজনীতির পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি আদৌ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি, স্বচ্ছতা এবং পড়ুয়াদের প্রকৃত প্রয়োজন মেটানোর উপর। তবে এটুকু নিশ্চিত, ডিজিটাল ভবিষ্যতের দিকে এগোতে রাজ্য সরকার যে বড় বাজি খেলতে চলেছে, তা এই মুহূর্তে স্পষ্ট।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন