নয়াদিল্লি: সিবিএসই (CBSE)-র নয়া ত্রিভাষা নীতি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই প্রবল উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে। এবার সেই উদ্বেগের মাঝেই বড়সড় স্বস্তির খবর। সংবাদসংস্থা এএনআই (ANI) সূত্রে খবর, বর্তমানে সিবিএসই বোর্ডের অধীনে সপ্তম, অষ্টম এবং নবম শ্রেণিতে যে পড়ুয়ারা দুটি বিদেশি ভাষা (Foreign Languages) নিয়ে পড়াশোনা করছে, তারা দশম শ্রেণি পর্যন্ত সেই একই ভাষার বিষয় নিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। (CBSE three language policy latest update)
উদ্বেগের সূত্রপাত কোথায়?
সম্প্রতি বোর্ডের তরফে অনুমোদিত স্কুলগুলিকে জুলাই মাস থেকে ত্রিভাষা নীতি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরেই স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সংশয় তৈরি হয়। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, যে পড়ুয়ারা বছরের পর বছর ধরে দুটি বিদেশি ভাষা নিয়ে পড়াশোনা করছে, তাদের হয়তো বাধ্য হয়ে মাঝপথে একটি বিদেশি ভাষা ছেড়ে দিয়ে কোনও ভারতীয় ভাষা বেছে নিতে হবে।
পড়ুয়া ও অভিভাবকদের জন্য স্বস্তি
এই বিভ্রান্তির মাঝেই একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান স্বীকার করে নিয়েছেন যে, সিবিএসই-র আগের নির্দেশিকাটিতে স্পষ্টতার অভাব ছিল এবং তার জেরেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই ধোঁয়াশা ইতিমধ্যেই কাটিয়ে ফেলা হয়েছে। যে পড়ুয়ারা বর্তমানে দুটি বিদেশি ভাষা নিয়ে পড়ছে, তারা দশম শ্রেণি পাশ করা পর্যন্ত তা চালিয়ে যেতে পারবে।
তবে, সিবিএসই এখনও সরকারিভাবে এই পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করেনি। মনে করা হচ্ছে, বোর্ডের গভর্নিং কাউন্সিলের বিস্তারিত আলোচনার পর সংশোধিত একটি নির্দেশিকা জারি করা হবে, যেখানে বর্তমান পড়ুয়াদের জন্য এই নীতি কীভাবে কার্যকর হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হবে।
কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে নয়া নিয়ম?
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020) অনুযায়ী অন্তত দুটি ভারতীয় ভাষা পড়ার যে নিয়মটি আনা হয়েছে, তা শুধুমাত্র সেই পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে যারা আগামী দিনে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হবে। পুরোনো পড়ুয়াদের ওপর পিছনের দিক থেকে (retrospectively) এই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হবে না।
বর্তমান সপ্তম থেকে নবম শ্রেণি- যারা দুটি বিদেশি ভাষা নিয়েছে, তারা আগের মতোই পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। নতুন করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠা পড়ুয়াদের তিনটি ভাষা পড়তে হবে, যার মধ্যে অন্তত দুটি ভারতীয় ভাষা হওয়া বাধ্যতামূলক।
পাঠ্যবই, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের সুবিধার জন্য ২২টি ভারতীয় ভাষায় বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী পাঠ্যবই উপলব্ধ করা হবে। শিক্ষক ও পরিকাঠামোগত ঘাটতির আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান যে, এটি দেশের বা রাজ্য বোর্ডের কোনও চ্যালেঞ্জ নয়, এটি সম্পূর্ণরূপে সিবিএসই-র নিজস্ব চ্যালেঞ্জ।
পাশাপাশি, বৃত্তিমূলক শিক্ষার (Vocational Education) ওপর আরও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের প্রতি বছর ১১০ ঘণ্টার স্কিল মডিউল সম্পন্ন করতে হবে। নবম এবং দশম শ্রেণিতে একটি স্কিল বা বৃত্তিমূলক বিষয় বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
এদিকে, সিবিএসই আধিকারিকরা বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন যে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক এই বৃত্তিমূলক বিষয়ের বদলে কোনও বিদেশি ভাষাকে বিকল্প হিসেবে রাখা যায় কি না। যদিও, সেই প্রস্তাবটি এখনও আলোচনার স্তরেই রয়েছে। আপাতত, সংশোধিত সরকারি নির্দেশিকাটি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত স্কুল এবং পড়ুয়াদের অপেক্ষা করতে হবে।



