হাওড়া: তৃণমূল কংগ্রেসে ফের বড় ধাক্কা। (Dr Sujay Chakraborty)হাওড়ার প্রাক্তন প্রশাসক বোর্ড চেয়ারম্যান ডা. সুজয় চক্রবর্তী আনুষ্ঠানিকভাবে দল ত্যাগের ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করছি। দলের সঙ্গে আমার আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না।” এই ঘোষণার পর হাওড়া রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
ডা. সুজয় চক্রবর্তী হাওড়ায় একজন পরিচিত মুখ। চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন সেবা দিয়ে এলাকায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। পরে তৃণমূলের হয়ে প্রশাসক বোর্ড চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফলাফল এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন বলে জানা গেছে।
আরও দেখুনঃ চন্দ্রনাথ খুনে পুলিশের ভূমিকায় তোপ দিলীপের, গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন
দলের অন্দরে স্বচ্ছতার অভাব, নেতাদের এককেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত এবং কর্মীদের উপেক্ষার অভিযোগ তুলে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. চক্রবর্তী বলেন, “আমি দলের প্রতি অনেকদিন আনুগত্য দেখিয়েছি। কিন্তু বর্তমানে দলের যে অবস্থা, তাতে আর থাকা সম্ভব নয়। আমি আমার সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করছি। হাওড়ার মানুষের সেবায় আমি নিবেদিত থাকব, কিন্তু তৃণমূলের হয়ে নয়।” তাঁর এই ঘোষণা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজ্যজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
Howrah, West Bengal: On leaving TMC, former administrator board chairman Dr. Sujoy Chakraborty says, “…I am distancing myself from all my contacts with TMC. I will no longer have any relation with the party…” pic.twitter.com/X7LmNe9kdr
— IANS (@ians_india) May 7, 2026
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে দলের একাংশের নেতারা বলছেন, এটি ব্যক্তিগত অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। কেউ কেউ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে তিনি হয়তো অন্য দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিজেপির হাওড়া জেলা নেতারা এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বিজেপি নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তিনি হয়তো শীঘ্রই তাদের দলে যোগ দেবেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দলত্যাগ শুধু একজন ব্যক্তির সিদ্ধান্ত নয়, তৃণমূলের বর্তমান সংকটের প্রতিফলন। ভবানীপুরসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে পরাজয়, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ দলের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে।
হাওড়ার মতো শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের জনভিত্তি দুর্বল হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।ডা. সুজয় চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি এখন কিছুদিন রাজনীতি থেকে দূরে থেকে চিকিৎসা সেবায় মনোনিবেশ করতে চান। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এত বড় পদে থাকা একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন নীরব থাকবেন না। তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে সবার নজর।




















