আইএসএলে উঠেও অনিশ্চয়তায় অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার এফসি, ভবিষ্যৎ ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে ডায়মন্ড হারবার এফসির ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা। আইএসএলে খেলা নিয়েও বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
diamond-harbour-fc-isl-future-uncertainty

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বাংলার রাজনৈতিক পালাবদল যেন আচমকাই অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিল বাংলার ফুটবলের এক নতুন স্বপ্নকে। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করার পর থেকেই নানা মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত ডায়মন্ড হারবার এফসি’র ভবিষ্যৎ নিয়ে। যে দলটি সদ্য আই-লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগামী মরসুমে আইএসএলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, সেই ক্লাবের অস্তিত্ব নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে ফুটবল মহলে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে জেলা ভিত্তিক একটি দল থেকে দেশের অন্যতম আলোচিত ক্লাবে পরিণত হয়েছিল ডায়মন্ড হারবার এফসি।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ডায়মন্ড হারবার এফসি( Diamond Harbour FC) খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতীয় ফুটবলে নজরকাড়া উত্থান ঘটিয়েছে। ২০২২ সালে কলকাতা ফুটবল লিগে অভিষেকের পর ধারাবাহিক সাফল্যে জাতীয় মঞ্চে জায়গা করে নেয় তারা। ২০২৪ সালে আই-লিগ ৩ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আই-লিগ ২-এ ওঠে দলটি। পরের মরসুমেই আই-লিগ ২ জিতে আই-লিগে উন্নীত হয়। ২০২৫ সালে ডুরান্ড কাপে ফাইনালে উঠে চমক দেয় ডায়মন্ড হারবার। একই বছরে অয়েল ইন্ডিয়া গোল্ড কাপ ও বডৌসা কাপও জেতে তারা। মাত্র কয়েক বছরে বাংলার অন্যতম সফল উদীয়মান ক্লাবে পরিণত হয়েছে ডায়মন্ড হারবার এফসি।

   

ক্লাবের একাধিক কর্মী এবং সমর্থকদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যদি কোনও ক্লাব সমস্যার মুখে পড়ে, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ফুটবলার এবং তাঁদের পরিবার। কারণ এই ক্লাব শুধু একটি দল নয়, অনেকের জীবিকার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডায়মন্ড হারবারের এক অফিসিয়াল এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা এই মুহূর্তে খুব আবেগপ্রবণ একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আই-লিগ জেতার আনন্দ এখনও পুরোপুরি উদযাপনই করতে পারিনি। তার মধ্যেই নানা ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছে ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

তবে একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ডায়মন্ড হারবার এফসি শুধুমাত্র কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্লাব নয়। এই ক্লাবের সঙ্গে হাজার মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে। আমাদের ফুটবলাররা দিনরাত পরিশ্রম করে এই জায়গায় পৌঁছেছে। আমরা চাই না রাজনীতির কারণে তাদের স্বপ্ন ভেঙে যাক। সমর্থকদের ভালোবাসা এবং ফুটবলের শক্তিতেই আমরা এগোতে চাই। কিন্তু সত্যি বলতে ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমিও সম্পূর্ণ নিশ্চিত নই”।

দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার রবিলাল মান্ডি বলেন, “আমি বহু ক্লাবে খেলেছি, কিন্তু ডায়মন্ড হারবারে যে পরিবেশ পেয়েছি, সেটা আলাদা। এখানে শুধু ফুটবল নয়, খেলোয়াড়দের মানুষ হিসেবেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখন যেটা শুনছি, তাতে সত্যিই ভয় লাগছে। কারণ একটা দল ভেঙে গেলে শুধু কয়েকজন ফুটবলারের ক্ষতি হয় না, বহু পরিবারের রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। আমরা মাঠে নিজেদের সেরাটা দিয়েছি, আইএসএলে ওঠার স্বপ্ন সত্যি করেছি। এখন চাই, এই দলটা টিকে থাকুক। বাংলার ফুটবলের জন্যও এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

ক্লাবের অন্যতম কর্ণধার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “ডায়মন্ড হারবার এফসি গড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার প্রতিভাবান ফুটবলারদের সামনে আনা। আমরা কখনও ভাবিনি রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এটা সত্যি, পরিস্থিতি সহজ নয়। কিছু স্পনসর ইতিমধ্যেই অপেক্ষার অবস্থানে চলে গিয়েছে। কিন্তু আমরা হাল ছাড়ছি না। এই ক্লাবের সঙ্গে অসংখ্য ছেলের স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। যারা গ্রামের মাঠ থেকে উঠে এসে আজ আইএসএলের দরজায় দাঁড়িয়ে। আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব এই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে। কারণ ফুটবল কোনও রাজনৈতিক দলের নয়, ফুটবল মানুষের।”

আবার কল্যাণীর বাসিন্দা তথা ডায়মন্ড হারবার এফসি-র সমর্থক অর্জুন দাস বলেন, “এই দলটা শুধু একটা ক্লাব নয়, আমাদের আবেগ। ছোট শহর আর গ্রামের ছেলেরা এখানে সুযোগ পেয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য যদি দলটা ভেঙে যায়, সেটা খুব কষ্টের হবে। আমরা চাই যেভাবেই হোক ডায়মন্ড হারবার এফসি টিকে থাকুক এবং আইএসএলে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করুক।” এবং এখানে বলে রাখা ভালো এই ক্লাবের কর্ণধার এবং লোকসভার সদস্য অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। এই মুহূর্তে ডায়মন্ড হারবার এফসি-র ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা সময়ই বলবে।

তবে একথা স্পষ্ট, রাজনীতির পালাবদলের মাঝেও ক্লাবের ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকেরা এখনও বিশ্বাস হারাননি। তাঁদের আশা, মাঠের লড়াইয়ের মতোই এই কঠিন সময়ের লড়াইটাও একদিন জিতে যাবে ডায়মন্ড হারবার এফসি।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google