কোচবিহার: নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে কোচবিহার জেলায় (North Bengal) একাধিক জায়গা থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার রাতে কোচবিহার শহরের লাগোয়া তোর্সা নদীর বিসর্জন ঘাট থেকে একসঙ্গে ১৭টি তাজা বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই ওই এলাকায় কিছু (North Bengal)সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি প্রথমে সাধারণ কৌতূহল মনে হলেও পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোচবিহার থানার পুলিশ এবং বোম্ব স্কোয়াড। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর তোর্সা নদীর বিসর্জন ঘাটের নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে ১৭টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বোমাগুলি অত্যন্ত সক্রিয় অবস্থায় ছিল, যার ফলে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়। পরে বোম্ব স্কোয়াড নিরাপদভাবে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করে। এই ঘটনায় কোনও বিস্ফোরণ ঘটেনি, তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচনের (North Bengal)আগে এই ধরনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথা থেকে এবং কীভাবে এতগুলি বোমা ওই এলাকায় রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই কোচবিহার শহর ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তুলেছে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল। তাদের দাবি, আগে থেকেই এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এই ধরনের ঘটনা ঘটত না। অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বড় বিপদ রুখেছে এবং তদন্ত চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা এলাকায় অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ আবার প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসাও করেছেন, কারণ সময়মতো উদ্ধার না হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত বলে তাঁদের ধারণা।




















