কোচবিহারের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ব্যাকফুটে তৃণমূল

কোচবিহার: ভোটের (WB Election 2026) দামামা বাজতে না বাজতেই কোচবিহার জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে চাপা অসন্তোষ ফেটে পড়েছে। জেলায় প্রায় ৩১ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার থাকা সত্ত্বেও ৯টি ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
Cooch Behar minority vote TMC

কোচবিহার: ভোটের (WB Election 2026) দামামা বাজতে না বাজতেই কোচবিহার জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে চাপা অসন্তোষ ফেটে পড়েছে। জেলায় প্রায় ৩১ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার থাকা সত্ত্বেও ৯টি বিধানসভা আসনের একটিতেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো প্রার্থী না দেওয়ায় দলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে।

প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই প্রবীণ নেতা-কর্মীদের একাংশ নিজেদের বঞ্চিত ও উপেক্ষিত বলে মনে করছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অসন্তোষ এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

   

তৃণমূল ছাড়লেন সংখ্যালঘু নেতা, কটাক্ষের ঝড়

এরই মধ্যে সংখ্যালঘু নেতা খোকন মিঞা তৃণমূল ছেড়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পর তিনি সরাসরি তৃণমূলকে ‘কর্পোরেট চালিত দল’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।

দলের বর্ষীয়ান নেতা আব্দুল জলিল আহমেদও একই সুরে বলেন, “আগে মমতা ব্যানার্জি নিজে প্রার্থী নির্বাচনে সরাসরি ভূমিকা নিতেন। এখন সেই সিদ্ধান্ত অন্য স্তর থেকে নেওয়া হচ্ছে। ফলে পুরনো নেতাদের গুরুত্ব কমে গেছে।”

দলের আরেক প্রবীণ কর্মী আজিজুল হকের কথায়, “দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন গড়ে তোলার পরেও আমাদের মতামতের কোনো মূল্য দেওয়া হচ্ছে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।”

বিজেপি হাতিয়ার করল অন্তর্দ্বন্দ্ব

এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করতে ছাড়েনি বিজেপি। দলের জেলা সহ-সভাপতি বিরাজ বোস বলেন, “তৃণমূলের প্রাচীন নেতারা এখন উপেক্ষিত। শুধু অন্য দল থেকে আসা নেতাদেরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

সীমান্ত জেলায় সংখ্যালঘু ভোটের গুরুত্ব

কোচবিহার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা। এখানে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভূমিকা ঐতিহ্যগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েকটি নির্বাচনে এই ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলের অন্যতম শক্তি ছিল। কিন্তু এবার ৯টি আসনে কোনো সংখ্যালঘু প্রার্থী না দেওয়ায় দলের ঐতিহ্যবাহী সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজনৈতিক মহলের অনেকে বলছেন, ভোটের মুখে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের অন্য জেলাগুলোতেও সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাব বিবেচনায় এই ঘটনা দলের কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এখন দেখার বিষয়, তৃণমূল জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব এই ক্ষোভ কীভাবে সামাল দেয় এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।

(প্রতিবেদনটি দলীয় সূত্র, স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে তৈরি।)

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google