কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বড়সড় মোড়। ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় উত্তরপ্রদেশ থেকে তিন ভাড়াটে শার্প শুটারকে গ্রেফতার করল সিআইডি। ধৃতদের ইতিমধ্যেই কলকাতায় নিয়ে এসে ভবানী ভবনে রাতভর জেরা করা হয়েছে। সোমবার তাদের বারাসত আদালতে তোলা হচ্ছে। (CID arrests UP sharp shooters in Chandranath Rath murder case)
শপথের আগেই রক্তপাত
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর যখন রাজ্যে উৎসবের আমেজ, তখনই গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে নৃশংসভাবে খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেওয়ার ঠিক আগের রাতে তাঁকে খুব কাছ থেকে পরপর চারটি গুলি করে আততায়ীরা। বুক ও হাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্তে ‘ইউপিআই’ সূত্র
খুনের পর আততায়ীরা গা-ঢাকা দিলেও একটি মারাত্মক ভুল করে বসে। তদন্তে নেমে সিআইডি ও এসটিএফ জানতে পারে, পালানোর সময় বালি টোল প্লাজায় ডিজিটাল লেনদেন বা ‘ইউপিআই’ (UPI) পেমেন্টের মাধ্যমে টোল মিটিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। ওই ডিজিটাল ট্রেইল অনুসরণ করেই তদন্তকারীরা উত্তরপ্রদেশে পৌঁছন এবং গতকাল রাতে তিন শার্প শুটারকে জালে তোলেন।
পেশাদার খুনি ও নকল নম্বর প্লেট
তদন্তে উঠে এসেছে, এই খুন ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। আততায়ীরা যে গাড়িটি ব্যবহার করেছিল, তাতে ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো ছিল। ওএলএক্সে (OLX) দেওয়া শিলিগুড়ির এক ব্যক্তির গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন থেকে নম্বর সংগ্রহ করে সেই নকল প্লেট তৈরি করা হয়েছিল। প্রথম থেকেই পুলিশের সন্দেহ ছিল যে, এই খুনের পিছনে ভিন রাজ্যের পেশাদার খুনিদের হাত রয়েছে।
তদন্তের পরবর্তী লক্ষ্য
ধৃত তিন শার্প শুটারকে জেরা করে সিআইডি এখন মূল ষড়যন্ত্রকারীর হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করছে। কার নির্দেশে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে টার্গেট করা হয়েছিল? এই খুনের নেপথ্যে কি কোনও গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা— সেই উত্তরই এখন খুঁজছেন তদন্তকারীরা। আজ বারাসত আদালতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে সিআইডি।




















