মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভারতীয় বস্ত্রশিল্পে (Indian textile) আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, এই চুক্তির আওতায় কিছু শর্ত পূরণ হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের উপর যুক্তরাষ্ট্রে শূন্য শুল্ক (০%) প্রযোজ্য হবে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এতে কি ভারতীয় রপ্তানিকারকরা পিছিয়ে পড়বেন? টেক্সটাইল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে এই আশঙ্কা অতটা জোরালো নয়।
শূন্য শুল্ক কি সত্যিই নিঃশর্ত?
ট্যাক্স কম্পাসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও অজয় রোট্টি জানাচ্ছেন, বাংলাদেশের জন্য এই ০% শুল্ক সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষ। অর্থাৎ, শুধুমাত্র তখনই শূন্য শুল্ক কার্যকর হবে, যখন বাংলাদেশের ফিনিশড টেক্সটাইল পণ্য মার্কিন উৎস থেকে উৎপাদিত তুলা বা কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি হবে।
বাস্তবে সমস্যা এখানেই। মার্কিন তুলার দাম বাংলাদেশ বা ভারতের স্থানীয় তুলার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সেই পণ্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
ভারতও কি একই সুবিধা পাচ্ছে?
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ভারতও একেবারে শুল্ক সুবিধা থেকে বঞ্চিত নয়। নির্দিষ্ট শর্তে যদি কোনও ভারতীয় টেক্সটাইল পণ্যে কমপক্ষে ২০ শতাংশ মার্কিন উৎসের তুলা বা কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেই পণ্যের উপর শুল্ক ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও বাকি উপাদানের উপর শুল্ক প্রযোজ্য থাকবে।
বাস্তবতা কী বলছে
অজয় রোট্টির মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ভারত বা বাংলাদেশের কারোর পক্ষেই বড় পরিসরে মার্কিন তুলা ব্যবহার করা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে কাগজে-কলমে থাকা শূন্য শুল্কের সুবিধা বাস্তবে খুব সীমিত পর্যায়েই থাকবে। এ কারণেই ভারতীয় টেক্সটাইল রপ্তানিকারকদের জন্য তাৎক্ষণিক বড় ক্ষতির সম্ভাবনা কম।
বরং ভারত তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে
বিশেষজ্ঞদের আরও দাবি, সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সমঝোতা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। বাংলাদেশকে যেখানে সীমান্ত পেরিয়ে ডেটা প্রবাহ, তথ্য স্থানীয়করণ, হালাল সার্টিফিকেশন ও জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগের মতো একাধিক ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হয়েছে, সেখানে ভারত তুলনামূলকভাবে কম ছাড় দিয়েই বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় করতে পেরেছে।
সংক্ষেপে বললে, মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি কাগজে-কলমে যতটা বড় মনে হচ্ছে, বাস্তবে তার প্রভাব ততটা গভীর নয়। উচ্চ কাঁচামাল খরচ এবং কঠিন শর্তের কারণে ভারতীয় টেক্সটাইল শিল্প আপাতত বড় কোনও প্রতিযোগিতামূলক ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কায় নেই।
বরং বাজার, উৎপাদন ক্ষমতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের দিক থেকে ভারত এখনও শক্ত অবস্থানেই রয়েছে, এমনটাই মনে করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকদের একাংশ।

