TCS-এর চাকরি ছেড়ে চালের ব্যবসা, বছরে ২৫ লক্ষ টাকা আয়ের দাবিতে ভাইরাল পোস্ট

নয়াদিল্লি: নিরাপদ চাকরি নাকি নিজের ব্যবসা, কোন পথ বেছে নেওয়া উচিত? এই পুরনো বিতর্কে নতুন করে আগুন জ্বেলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট। সেখানে…

tcs-job-rice-business-25-lakh-income-viral-post

নয়াদিল্লি: নিরাপদ চাকরি নাকি নিজের ব্যবসা, কোন পথ বেছে নেওয়া উচিত? এই পুরনো বিতর্কে নতুন করে আগুন জ্বেলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট। সেখানে দাবি করা হয়েছে, একজন যুবক ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টে TCS-এর চাকরির সুযোগ ফিরিয়ে দিয়ে চালের ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে সেই ব্যবসা থেকে তাঁর বছরে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই তথ্য শেয়ার করেছেন এক্স ( টুইটার)-এর ব্যবহারকারী অঙ্কিত পাণ্ডে। তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনা তাঁর এক বন্ধুর। তবে পোস্টে দেওয়া আর্থিক পরিসংখ্যান বা ব্যবসার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

Advertisements

ভাইরাল পোস্ট অনুযায়ী, ওই যুবক চাকরির পরিবর্তে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিভিন্ন গ্রাম ও রাজ্যের কৃষকদের কাছ থেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে সরাসরি চাল কেনেন।

পোস্টে দাবি করা হয়েছে, প্রতি কেজি চাল তিনি ৩৫ টাকা দামে কেনেন। এরপর পরিষ্কার করা, প্যাকেজিং এবং পরিবহণ মিলিয়ে আরও ৫ টাকা খরচ হয়। ফলে প্রতি কেজি চালের মোট খরচ দাঁড়ায় ৪০ টাকা ।

এরপর নিজের ব্র্যান্ডের নামে সেই চাল খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে ₹৫০ প্রতি কেজি দরে বিক্রি করা হয়। পরে খুচরো বিক্রেতারা গ্রাহকদের কাছে সেটি ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা প্রতি কেজি দামে বিক্রি করেন।

এই হিসাবে প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ টাকা লাভ থাকে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিমাণে লাভ কম মনে হলেও, বড় আকারে ব্যবসা হওয়ায় মোট আয়ের অঙ্ক দ্রুত বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পোস্ট অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি প্রায় ২০০টি খুচরো দোকানে চাল সরবরাহ করেন এবং প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কুইন্টাল, অর্থাৎ ২০,০০০ কেজি চাল বিক্রি করেন। এই হিসাব ধরেই তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই সমস্ত তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এগুলি শুধুমাত্র ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে করা দাবি।

পোস্টটি প্রকাশের পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পরিকল্পিত ঝুঁকি নিয়ে নিজের ব্যবসা শুরু করলে দীর্ঘমেয়াদে চাকরির তুলনায় বেশি সাফল্য পাওয়া সম্ভব।

অন্যদিকে, অনেক ব্যবহারকারী সতর্কতাও দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ব্যবসা পরিচালনা করা মোটেই সহজ নয়। কাঁচামালের দাম, পরিবহণ, বাজারের চাহিদা, প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য খরচ সবসময় পরিবর্তিত হয়। ফলে একজনের সাফল্যের গল্প অন্য কারও ক্ষেত্রেও একইভাবে সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই পুরনো প্রশ্ন উঠে এসেছে, বর্তমানে প্রচলিত “নিরাপদ চাকরি” কতটা নিরাপদ, আর পরিকল্পিত উদ্যোক্তা হওয়ার ঝুঁকি কতটা লাভজনক হতে পারে। তবে অধিকাংশ ব্যবহারকারীই মনে করিয়ে দিয়েছেন, উদ্যোক্তা হওয়া কোনও নিশ্চিত সাফল্যের পথ নয়। প্রতিটি ব্যবসার সাফল্য নির্ভর করে পরিকল্পনা, পরিশ্রম, বাজার পরিস্থিতি এবং সঠিক সিদ্ধান্তের উপর।