অনলাইনে খেতে লাখ টাকার বিল! সেরা উপভোক্তাদের তালিকা দিল Swiggy

অনলাইনে খাবার অর্ডার দেওয়া এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং শহুরে জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অফিসের ব্যস্ততা, রাতজাগা কাজ, হঠাৎ অতিথি—সব ক্ষেত্রেই ভরসা অ্যাপ-নির্ভর ডেলিভারি পরিষেবা। তবে ২০২৫ সালের ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
swiggy-super-consumers-online-food-orders-2025

অনলাইনে খাবার অর্ডার দেওয়া এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং শহুরে জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অফিসের ব্যস্ততা, রাতজাগা কাজ, হঠাৎ অতিথি—সব ক্ষেত্রেই ভরসা অ্যাপ-নির্ভর ডেলিভারি পরিষেবা। তবে ২০২৫ সালের শেষে সুইগি (Swiggy) যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে, তা দেখে চমকে উঠেছেন অনেকেই। কারণ এই রিপোর্টে উঠে এসেছে এমন কিছু ‘সুপার কনজিউমার’-এর গল্প, যাঁদের অনলাইন খরচ শুনলে চোখ কপালে ওঠা স্বাভাবিক। কোথাও এক বছরে লাখ টাকার বেশি খাবার ও গ্রোসারির বিল, কোথাও আবার নির্দিষ্ট একটি পণ্যে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়!

সুইগির ইনস্টামার্ট ও ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের বছরশেষের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের এক গ্রাহক একাই প্রায় ২২ লক্ষ টাকার অর্ডার দিয়েছেন। এই বিপুল খরচের মধ্যে রয়েছে দৈনন্দিন গ্রোসারি থেকে শুরু করে একাধিক প্রিমিয়াম স্মার্টফোন। রিপোর্ট বলছে, ওই গ্রাহক এক বছরে প্রায় ২২টি আইফোন অর্ডার করেছেন—যা অনলাইন শপিং ও ‘ইম্পালস বাইং’-এর চরম উদাহরণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

   

শুধু তাই নয়, সুইগির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক গ্রাহক বছরে প্রায় ১৬.৩ লক্ষ টাকার এনার্জি ড্রিঙ্ক (বিশেষ করে রেড বুল) অর্ডার করেছেন। শহুরে কর্মজীবনের চাপ, রাত জেগে কাজ করা বা ফিটনেস-সংক্রান্ত অভ্যাস—যাই হোক না কেন, এই খরচ দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মজা করে লিখেছেন, “এই পরিমাণ এনার্জি ড্রিঙ্কে গোটা পাড়ার রাত জাগানো সম্ভব!”

রিপোর্টের আরেকটি তথ্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এক ব্যবহারকারী বছরে মোট ২২৮ বার কন্ডোম অর্ডার করেছেন, যার মোট মূল্য প্রায় ১ লক্ষ টাকা। এই তথ্য সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো মিমের বন্যা বয়ে যায়। কেউ কেউ রসিকতা করে বলেছেন, “প্রতিদিনের অভ্যাসই বোধহয়,” আবার কেউ কেউ এটাকে শহুরে জীবনযাত্রার বদলে যাওয়া মানসিকতার প্রতিফলন বলেও ব্যাখ্যা করেছেন।

সুইগির তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অস্বাভাবিক বা ‘কুইর্কি’ কার্টের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে বেঙ্গালুরু। কখনও একসঙ্গে অর্ডার হয়েছে দামি স্মার্টফোন ও লেবুর শরবত, কখনও আবার মধ্যরাতে আইসক্রিমের সঙ্গে অফিস স্টেশনারি। এই প্রবণতা দেখিয়ে দেয়, দ্রুত ডেলিভারি পরিষেবা কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন ও হঠাৎ চাওয়াকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান ভারতের বদলে যাওয়া ভোক্তা সংস্কৃতিরই প্রতিচ্ছবি। দ্রুত ডেলিভারি, সহজ পেমেন্ট ও অ্যাপের সুবিধার কারণে এখন মানুষ ছোট-বড় সব প্রয়োজনেই অনলাইনের উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে মেট্রো শহরগুলিতে সময়ের মূল্য এতটাই বেশি যে, অনেকেই বাড়তি খরচ করতেও পিছপা হচ্ছেন না। একই সঙ্গে টিয়ার-টু শহরগুলিতেও সুইগির মতো প্ল্যাটফর্মের প্রসার ঘটছে, যা আগামী দিনে এই ধরনের খরচের পরিমাণ আরও বাড়াতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

তবে এই প্রবণতা নিয়ে সতর্কবার্তাও দিচ্ছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সুবিধার আড়ালে যেন অতিরিক্ত খরচ ও অপচয় না বেড়ে যায়। অনলাইনে কয়েক ক্লিকে অর্ডার করার অভ্যাস অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটাকে উৎসাহিত করে, যা মাসের শেষে বড় অঙ্কের বিল হয়ে দাঁড়ায়।

সব মিলিয়ে, সুইগির এই বছরশেষের রিপোর্ট শুধু হাসি-মজার উপকরণ নয়, বরং আধুনিক শহুরে জীবনের এক বাস্তব চিত্র। কোথাও অতিরিক্ত স্বাচ্ছন্দ্য, কোথাও আবার লাগামছাড়া খরচ—এই দুইয়ের মাঝামাঝি দাঁড়িয়েই এগোচ্ছে ভারতের অনলাইন ফুড ও কুইক কমার্স সংস্কৃতি।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google