আমেরিকা-ইরান চুক্তির প্রভাব! হুড়মুড়িয়ে পড়ল তেলের দাম, সেনসেক্স-নিফটিতে বড় লাফ

মুম্বই: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ব্যাপক পতনের জেরে সপ্তাহের প্রথম দিনেই ভারতের শেয়ার বাজারে বড়সড় উত্থান…

Sensex rally today after crude oil price fall

মুম্বই: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ব্যাপক পতনের জেরে সপ্তাহের প্রথম দিনেই ভারতের শেয়ার বাজারে বড়সড় উত্থান দেখা গেল। শুক্রবারের তেজি ভাব বজায় রেখে সোমবার বাজার খুলতেই হুড়মুড়িয়ে চড়ল সেনসেক্স ও নিফটির সূচক। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফিরে এল স্বস্তির মেজাজ। (Sensex rally today after crude oil price fall)

সেনসেক্স ও নিফটিতে বড় লাফ

সকাল ৯:২৫ মিনিটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) বেঞ্চমার্ক সূচক সেনসেক্স একধাক্কায় ১,০৯৭.০৫ পয়েন্ট বা ১.৪৫% বেড়ে ৭৬,৬২৫.০০-এর স্তরে পৌঁছে যায়। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) সূচক নিফটি ৫০ প্রায় ৩৩৩.৯০ পয়েন্ট বা ১.৪১% লাফিয়ে ২৩,৯৫৫.৯৫-এর গণ্ডি স্পর্শ করে।

   

তেলের দামে পতন ও অর্থনীতির স্বস্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফ থেকে সংঘাত থামানো এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে ফের জাহাজ চলাচলের বিষয়ে প্রাথমিক চুক্তির ঘোষণার পরেই বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দূর হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দামে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৫৯% কমে ব্যারেল প্রতি ৮৩.৩২ ডলারে নেমে এসেছে। ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দাম ৫.০২% কমে ব্যারেল প্রতি ৮০.৬২ ডলার হয়েছে।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য তেলের দামের এই পতন অত্যন্ত ইতিবাচক একটি খবর। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে দেশের মূল্যস্ফীতি, চলতি খাতের ঘাটতি এবং টাকার দামের ওপর তৈরি হওয়া চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

কোন কোন সেক্টরে আজ লাভ?

এদিন শেয়ার বাজারের প্রায় প্রতিটি সেক্টরেই ব্যাপক কেনাবেচার ধুম দেখা যায়। সবথেকে বেশি লাভবান হয়েছে নিফটি রিয়েলটি (২.৭৫%), নিফটি ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস (১.৭৯%) এবং নিফটি অটো (১.৯৪%)।
সেনসেক্সের তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে ইটার্নাল (৩.৮৮%), ইন্ডিগো (৩.৭৯%), বাজাজ ফাইন্যান্স (৩.৫২%), আল্ট্রাটেক সিমেন্ট (৩.৩১%), বাজাজ ফিনসার্ভ (৩.০৩%) এবং লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (২.৮৬%)। তবে ভারতী এয়ারটেল (-০.৩১%) এবং সান ফার্মার (-০.১২%) মতো গুটি কয়েক শেয়ার ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, বৃহত্তর বাজারেও ভালো প্রভাব পড়েছে; নিফটি মিডক্যাপ ১০০ এবং স্মলক্যাপ ১০০ সূচক যথাক্রমে ১.৩৫% এবং ১.৩৬% বৃদ্ধি পেয়েছে।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ডঃ ভিকে বিজয়কুমার জানিয়েছেন, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮৪ ডলারের নিচে নেমে আসা ভারতীয় অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারের জন্য দারুণ খবর। তাঁর মতে, “তেলের এই নিম্নমুখী দামের ফলে ২০২৭ অর্থবর্ষের (FY27) আর্থিক বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা আরও ভালো জায়গায় পৌঁছতে পারে। পাশাপাশি, প্রতি ডলারের নিরিখে টাকার দাম ৯৫-এর নিচে শক্তিশালী হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধন তুলে নেওয়ার চাপও কমবে।”

তবে পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তিনি এও জানিয়েছেন যে, নিফটির তুলনায় মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচকের ভ্যালুয়েশন এখনও বেশ দামি পর্যায়ে রয়েছে। তাই এই সেগমেন্টে বিনিয়োগের আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।