প্রথমবার ৯৬ পার ডলার! টাকার রেকর্ড পতনে মুদ্রাস্ফীতির মেঘ

মুম্বই: আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় মুদ্রার রক্তক্ষরণ থামার লক্ষণ নেই। শুক্রবার মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দামে নজিরবিহীন ধস নামল। এদিন সকালে লেনদেনের শুরুতেই ডলার পিছু ভারতীয়…

মুম্বই: আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় মুদ্রার রক্তক্ষরণ থামার লক্ষণ নেই। শুক্রবার মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দামে নজিরবিহীন ধস নামল। এদিন সকালে লেনদেনের শুরুতেই ডলার পিছু ভারতীয় মুদ্রার মান দাঁড়িয়েছে ৯৬.০৫ টাকা। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম মার্কিন মুদ্রার বিনিময় মূল্য ৯৬-এর মনস্তাত্ত্বিক গণ্ডি অতিক্রম করল। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ এবং অপরিশোধিত তেলের চড়া দামই টাকার এই রেকর্ড পতনের প্রধান কারিগর। (Rupee falls to 96 against dollar)

যুদ্ধের আঁচ এবং তেলের ধাক্কা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। ভারত তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি বিল একলাফে অনেকটা বেড়ে যায়, যার প্রত্যক্ষ চাপ পড়ে মুদ্রার ওপর। ডলারে পেমেন্ট করতে গিয়ে ক্রমাগত শক্তি হারাচ্ছে ভারতীয় টাকা।

   

বাজার বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ

সোয়স্তিকা ইনভেস্টমার্ট লিমিটেডের সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট প্রবেশ গৌড় জানান, “বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং ডলারের প্রবল চাহিদাই টাকাকে এই রেকর্ড নিম্নস্তরে নামিয়ে এনেছে। তেলের আমদানি খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারত থেকে বিদেশি পুঁজি (Foreign Fund Outflow) বের হয়ে যাওয়াও মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।”

বিপাকে মধ্যবিত্ত, লাভের মুখ দেখবে কারা?

মুদ্রাস্ফীতির ভয়: টাকা দুর্বল হওয়ায় জ্বালানি তেলের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স, ভোজ্য তেল এবং শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম বাড়বে। এর ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

আইটি ও ফার্মা সেক্টরে স্বস্তি: মুদ্রার পতনে আবার রূপালি রেখাও রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি (IT) এবং ওষুধ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি যারা ডলারে লেনদেন করে, তাদের মুনাফা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আরবিআই-এর পদক্ষেপ

টাকার এই লাগামহীন পতন রুখতে ময়দানে নেমেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)। সূত্রের খবর, বাজারের এই অস্থিরতা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নিয়মিত হস্তক্ষেপ করছে এবং টাকার পতন কিছুটা ধীর করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবুও বিশ্ববাজারের যা পরিস্থিতি, তাতে নিকট ভবিষ্যতে টাকা খুব একটা শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন না অর্থনীতিবিদরা।