কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ বাড়তে থাকা অস্থিরতা এবং যুদ্ধের আবহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে (Petrol Price)। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ওঠানামা করতেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের খুচরো জ্বালানির দামে। ফলে দেশের বিভিন্ন শহরে পেট্রোলের দামে স্পষ্ট ফারাক দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে বাড়তি বোঝা তৈরি করছে।
বর্তমানে দেশের বড় শহরগুলির মধ্যে হায়দরাবাদে পেট্রোলের দাম সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ₹১০৭.৪৫ থেকে ₹১০৭.৫০ এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। একইভাবে কেরলের রাজধানী তিরুবনন্তপুরমেও দাম প্রায় সমান, ₹১০৭.৪৭ প্রতি লিটার। এর পরেই রয়েছে মধ্যপ্রদেশের ভোপাল, যেখানে পেট্রোলের দাম ₹১০৬.৫১।
আরও দেখুনঃ শেষ রাতের পাক এয়ার স্ট্রাইকে ৪০০ নিহত কাবুলে
পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর কলকাতায় পেট্রোলের দাম ₹১০৪.৯৯ থেকে ₹১০৫.৪৫ এর মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে বিহারের রাজধানী পাটনাতেও দাম ₹১০৫.২২ থেকে ₹১০৬.১১ পর্যন্ত পৌঁছেছে। রাজস্থানের জয়পুরে পেট্রোলের দাম ₹১০৪.৭১ থেকে ₹১০৪.৭২, যা কলকাতার তুলনায় কিছুটা কম হলেও এখনও উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।
অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বইয়ে পেট্রোলের দাম ₹১০৩.৪৯ থেকে ₹১০৩.৫৪, আর আইটি হাব বেঙ্গালুরুতে ₹১০২.৯০ থেকে ₹১০২.৯৯। দক্ষিণ ভারতের আরেক বড় শহর চেন্নাইয়ে পেট্রোলের দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম, ₹১০০.৭৯ থেকে ₹১০১.০৬ প্রতি লিটার। রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত, ₹৯৪.৭৭ থেকে ₹৯৪.৮১। একইভাবে উত্তরপ্রদেশের লখনউতেও দাম প্রায় একই স্তরে রয়েছে, ₹৯৪.৬৯ থেকে ₹৯৪.৭৩। গুজরাটের আহমেদাবাদেও পেট্রোলের দাম ₹৯৪.৪৮ থেকে ₹৯৪.৪৯ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
সবচেয়ে কম দামের শহর হিসেবে উল্লেখযোগ্য আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ার, যেখানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম মাত্র ₹৮২.৪৬। সাধারণত করের হার কম হওয়ার কারণেই এখানে জ্বালানির দাম দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেকটাই কম থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলার-রুপির বিনিময় হার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ কর কাঠামো, যা শেষ পর্যন্ত খুচরো বাজারে পেট্রোলের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের কাছে এই বাড়তি জ্বালানি খরচ মানে পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি, যার প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামেও। ফলে মূল্যবৃদ্ধির চাপে পড়ে নাজেহাল অবস্থা সাধারণ নাগরিকদের। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যতদিন না আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হচ্ছে, ততদিন জ্বালানির দামে বড় ধরনের স্বস্তি পাওয়া কঠিন। তাই আগামী দিনে পেট্রোলের দাম আরও ওঠানামা করতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।




















