মুম্বই: ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশে আয়করের (Income Tax) কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে চলেছে। এই পরিবর্তন ঘিরে করদাতাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, নতুন কর বছর চালু হলে কি আগের আয়ের উপর নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে? সরকার এই বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পুরনো আয় সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং কোনও দ্বৈত কর আরোপ করা হবে না।
সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কর নির্ধারণ হবে আয় কবে উপার্জিত হয়েছে, তার উপর ভিত্তি করে, কবে তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে তার উপর নয়।
পুরনো ও নতুন আইনের মধ্যে সংঘর্ষ হবে কি?
সরকার জানিয়েছে, ১৯৬১ সালের আয়কর আইন অনুযায়ী
মূল্যায়ন বছর ২০২৬–২৭ প্রযোজ্য হবে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে উপার্জিত আয়ের ক্ষেত্রে।
এর অর্থ, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের আয়ের সঙ্গে এই মূল্যায়ন বছরের কোনও সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে, নতুন আয়কর আইনের অধীনে
কর বছর ২০২৬–২৭ প্রযোজ্য হবে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে উপার্জিত আয়ের ক্ষেত্রে।
অর্থাৎ, পুরনো আইন ও নতুন আইন আলাদা আলাদা সময়ের আয়ের উপর প্রযোজ্য হবে। দুই আইনের মধ্যে কোনও ওভারল্যাপ বা সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি হচ্ছে না।
পরিবর্তনটি কীভাবে কার্যকর হবে?
সরকার বিষয়টি সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছে,
২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের আয়
→ পুরনো আয়কর আইনের অধীনে
→ মূল্যায়ন হবে ২০২৬–২৭ করবর্ষে২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের আয়
→ নতুন আয়কর আইনের অধীনে
→ কর ধার্য হবে একই করবর্ষে
যদিও দুটি ক্ষেত্রেই করবর্ষ একই ক্যালেন্ডার বছরে পড়ছে, তবে আয়ের সময়কাল আলাদা হওয়ায় নিয়মও আলাদা হবে।
নতুন “করবর্ষ” বলতে কী বোঝানো হচ্ছে?
নতুন আইনে “পূর্ববর্তী বছর” শব্দটির বদলে ব্যবহার করা হয়েছে “করবর্ষ” শব্দটি।
একটি করবর্ষ মানে একটি সম্পূর্ণ আর্থিক বছর, অর্থাৎ ১২ মাস।
নতুন ব্যবস্থায়,
আয়
করের হার
কর মূল্যায়ন
সবকিছুই একই করবর্ষের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
সরকারের মতে, আগে “পূর্ববর্তী বছর” ও “মূল্যায়ন বছর” আলাদা হওয়ায় অনেক করদাতা বিভ্রান্ত হতেন। নতুন কাঠামো সেই জটিলতা কমাবে। তবে আর্থিক বছরের ধারণা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, কারণ রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া এখনও তার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
করবর্ষ কি সংক্ষিপ্ত হতে পারে?
হ্যাঁ। যদি বছরের মাঝামাঝি কোনও নতুন ব্যবসা শুরু হয় বা আয়ের নতুন উৎস তৈরি হয়, তাহলে করবর্ষ সংক্ষিপ্ত হতে পারে।
এই ক্ষেত্রে,
করবর্ষ শুরু হবে আয়ের দিন থেকে
শেষ হবে ৩১ মার্চে
এটি আগের নিয়মের মতোই একটি স্বীকৃত পদ্ধতি।
করদাতাদের কি দুশ্চিন্তার কারণ আছে?
সরকার স্পষ্ট করেছে,দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই।
সহজ ভাষায় বললে,
৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত উপার্জিত আয় → পুরনো আইনে কর
১ এপ্রিল ২০২৬-এর পরে উপার্জিত আয় → নতুন আইনে কর
পুরনো আয়ের উপর নতুন নিয়ম চাপানো হবে না। কোনও দ্বৈত কর আরোপও হবে না।
সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য কর ব্যবস্থাকে সহজ ও স্পষ্ট করা, হঠাৎ করে করের নিয়ম বদলে করদাতাদের চাপে ফেলা নয়।
সংক্ষেপে কী বোঝা গেল?
নতুন কর ব্যবস্থা চালু হচ্ছে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে
পুরনো আয়ের উপর পুরনো আইনই বহাল থাকবে
নতুন আইন শুধু ভবিষ্যতের আয়ের জন্য
করদাতাদের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই




















