গ্যাসের ছ্যাঁকায় পুড়ছে পকেট! রান্নার বিকল্প খুঁজতে কলকাতায় হু হু করে বিকোচ্ছে ইন্ডাকশন কুকার 

Kolkata Induction Cooker Sales Surge

কলকাতা: রান্নার গ্যাসের (LPG) দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে গ্যাস অমিল হওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি রান্নার বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ। আর এর জেরেই কলকাতায় ইলেকট্রিক কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স, বিশেষ করে ইন্ডাকশন কুকারের বিক্রি একলাফে তিনগুণ বেড়ে গিয়েছে। শহরের চাঁদনি মার্কেট থেকে শুরু করে এজরা স্ট্রিট, ইলেকট্রনিক্সের বাজারগুলিতে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

বিক্রি বেড়েছে তিনগুণ! কী বলছেন ব্যবসায়ীরা?

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকেই এই গ্যাস-সঙ্কটের কারণ হিসেবে দায়ী করেছে কেন্দ্র। আর শনিবার সরকারের এই ঘোষণার পর থেকেই বাজারে হিড়িক পড়ে গিয়েছে।

   

খোসলা ইলেকট্রনিক্সের ডিরেক্টর মণীশ খোসলা জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যা থেকেই ইন্ডাকশন কুকারের বিক্রি আচমকা বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং সিলিন্ডার না পাওয়ার আশঙ্কায় মানুষ আতঙ্কিত। শনিবার আমাদের বিক্রি ৬০ শতাংশ বেড়েছে, রবিবারও একই ছবি। সাধারণত শহরের ৮৬টি আউটলেট মিলিয়ে দিনে ৪০-৪৫টি ইন্ডাকশন বিক্রি হয়, এখন তা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০-১৩০টিতে।”

রায়পুর ইলেকট্রনিক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর রাজিন্দর সিং রায়পুর জানান, গ্যাসের দাম বাড়ার খবর ছড়াতেই মানুষ ইন্ডাকশন এবং তার উপযুক্ত বাসনপত্র কিনতে দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন।

একই কথা গ্রেট ইস্টার্ন রিটেলের ডিরেক্টর পুলকিত বৈদ্যর মুখে৷ তিনি জানান, শুধু ইন্ডাকশন নয়, পাল্লা দিয়ে বিক্রি বাড়ছে ইলেকট্রিক কেটলি, রাইস কুকার এবং হট প্লেটেরও। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনেকেই নতুন মাইক্রোওয়েভ ওভেনও কিনছেন।

সেলস এম্পোরিয়ামের ডিরেক্টর অভিষেক জৈন বলেন, “ইন্ডাকশনের বিক্রি ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। স্টক ফুরিয়ে গেলে অবিলম্বে তা আবার আনানোর ব্যবস্থা করছি আমরা, কারণ চাহিদা তুঙ্গে।”

কী বলছেন ক্রেতারা? Kolkata Induction Cooker Sales Surge

গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতেই যে এই পদক্ষেপ, তা স্পষ্ট ক্রেতাদের কথাতেও। সল্টলেকের বাসিন্দা সুমেধা বাগলা রবিবারই একটি ইন্ডাকশন কুকার কিনেছেন। তাঁর কথায়, “গ্যাসের দাম পকেটে ছ্যাঁকা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে সংকট দেখা দিলে দাম আরও বাড়তে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই ইন্ডাকশন কুকার কিনে রাখলাম, যাতে গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো যায়।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলের এই অস্থিরতা যতদিন না কাটছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আতঙ্ক এবং বিকল্প রান্নার সরঞ্জামের চাহিদা বাজারগুলিতে বজায় থাকবে।