নয়াদিল্লি: ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কৃষি, দুগ্ধ ও কৃষি খাতে কোনও আপস নেই কৃষকদের স্বার্থ অটুট থাকবে! (Modi)তেল কেনার ক্ষেত্রে ‘পিপল-ফার্স্ট’ কৌশল: শুধু নন-স্যাঙ্কশনড দেশ থেকে কেনা হবে, বাজারের সেরা দামে স্বাধীনতা বজায় রাখা। ট্রাম্পের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের দাবি? এটা ৬-৭ বছর ধরে ধাপে ধাপে বাড়তি কেনাকাটা ও বিনিয়োগের ফল!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, ভারতের সঙ্গে একটা বড় বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এতে মার্কিন পণ্যের ওপর ভারতের ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা কমানো হবে, আর ভারত আমেরিকান পণ্য কেনার পরিমাণ বাড়াবে এনার্জি, টেকনোলজি, কয়লা, কৃষি সহ মোট ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, ভারত রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলা থেকে কিনবে।
আরও দেখুন : ‘এআই দিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে,’ দিল্লি থেকে তোপ মমতার
কিন্তু ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এই চুক্তিতে কৃষক, দুগ্ধ ও কৃষি খাতের স্বার্থে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি।সরকারি সূত্র জানিয়েছে, কৃষি ও দুগ্ধ খাত ভারতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। লক্ষ লক্ষ ছোট কৃষক ও দুগ্ধ উৎপাদকের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। তাই চুক্তিতে এই খাতগুলোকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। আমেরিকান কৃষি পণ্যের বড় ধরনের মার্কেট অ্যাক্সেস দেওয়া হয়নি।
কোনও জেনেটিক্যালি মডিফাইড ফসল বা দুগ্ধজাত পণ্যের বড় আমদানি খুলে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কৃষকদের স্বার্থ অ-আলোচনাযোগ্য এটা সরকারের অটল অবস্থান।তেল কেনার কৌশল নিয়েও ভারত স্পষ্ট। ট্রাম্পের দাবি যে ভারত রাশিয়ান তেল বন্ধ করবে এটা সত্য নয়। সরকারি সূত্র বলছে, তেল কেনা হবে বাজারের সেরা দামে এবং শুধু নন-স্যাঙ্কশনড উৎস থেকে।
ভারতের এনার্জি সিকিউরিটি ও স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি অটুট থাকবে। জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে তেল কেনার নীতি চালু থাকবে কোনও দেশের চাপে বা স্যাঙ্কশনের ভয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।ট্রাম্পের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের দাবি নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা কোনও এককালীন প্রতিশ্রুতি নয়। বর্তমানে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার।
এই চুক্তির ফলে ট্রেড ৫ গুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, কিন্তু ৫০০ বিলিয়নের লক্ষ্য ৬-৭ বছর ধরে ধাপে ধাপে অর্জন করা হবে। এতে আমদানি বাড়বে তেল, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বিমান, প্রযুক্তি ইত্যাদিতে। কিন্তু এটা বাধ্যতামূলক নয়, বরং বাজারভিত্তিক ও পর্যায়ক্রমিক বৃদ্ধি।এই চুক্তিতে মার্কিন পক্ষ ভারতীয় পণ্যের ওপর ট্যারিফ ৫০% থেকে ১৮%-এ নামিয়েছে, রাশিয়ান তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত পেনাল্টি তুলে নিয়েছে। ভারতের রফতানি খাত টেক্সটাইল, জুয়েলারি, ইঞ্জিনিয়ারিং গুডস উপকৃত হবে। অর্থনীতিতে এটা বড় স্বস্তি। কিন্তু সরকার জোর দিয়েছে যে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই এগোনো হয়েছে। কৃষকদের রক্ষা, এনার্জি স্বাধীনতা এসব অটুট।




















