নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের মাঝে ভারত আবারও প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। (Sri Lanka Crisis)প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিসানায়েকের টেলিফোনালাপের পর ভারত শ্রীলঙ্কায় জরুরি ভিত্তিতে ৩৮,০০০ মেট্রিক টন জ্বালানি পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ২০,০০০ টন ডিজেল এবং ১৮,০০০ টন পেট্রল রয়েছে। কলম্বো বন্দরে এই চালান পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। অনেক দেশের সরবরাহকারীরা ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করে সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা জ্বালানির তীব্র সংকটে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকের মধ্যে ২৪ মার্চের ফোনালাপে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ, গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের সমস্যা এবং দ্বিপাক্ষিক জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে কথা বলেন।
তারপরই ভারতীয় অয়েল কর্পোরেশনের মাধ্যমে লঙ্কা আইওসি-কে এই জরুরি চালান পাঠানো হয়। শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী বিজিথা হেরাথের সঙ্গেও ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর কথা বলেন।একই সময়ে বাংলাদেশেও ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫,০০০ টন ডিজেল পৌঁছেছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশকে ভারতের মোট ডিজেল সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫,০০০ টন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে ভারত আরও ৪০,০০০ টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে, যা বাংলাদেশ ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে। নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে এই ডিজেল আসছে।ভারত সরকারের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রথমে দেশের নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে তারপর প্রতিবেশীদের সাহায্য করা। মোদী সরকারের নীতি হলো ‘প্রথমে ভারত’। দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তবেই প্রতিবেশীদের দিকে তাকানো। এই নীতির কারণে ভারত নিজের রিফাইনারিগুলোকে সচল রেখে প্রতিবেশীদের সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারছে।



















