
নয়াদিল্লি: রান্নার গ্যাসের যোগানে খামতি থাকার অভিযোগ উঠেছে দেশজুড়ে, আর সেই সুযোগকে পুঁজি করে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশের নামী রেস্তোরাঁগুলোতে। এখন থেকে বিরিয়ানি বা বাটার চিকেনের বিলে আপনি চোখ রাখলে চমকে উঠতে পারেন ‘ফুয়েল সারচার্জ’ বা ‘গ্যাস সাপ্লাই চার্জ’-এর মতো অদ্ভুত সব খাতের নাম দেখে।
রেস্তোরাঁর বিলে নতুন ‘সারচার্জ’
চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে রেস্তোরাঁর বিলে ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ যোগ করা হচ্ছে। হোটেল মালিকদের সাফ কথা, বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান কম হওয়ায় রান্নাঘর চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তাই এই বাড়তি খরচ মেটাতে গ্রাহকদের ওপর এই শুল্ক চাপানো ছাড়া উপায় নেই। কোনো রেস্তোরাঁ বিলের সঙ্গে সরাসরি ‘LPG Revision’ বা ‘Fuel Surcharge’ হিসেবে এই টাকা আদায় করছে।
সংকট কোথায়? India LPG Shortage Restaurants
রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। এর ফলে ভারতে এলপিজি আমদানিতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। যে পরিমাণ সিলিন্ডার নিয়মিত আসার কথা, তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বা তারও কম সরবরাহ মিলছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতির চাপে অনেক হোটেল মেনু কার্ড ছোট করতে বাধ্য হয়েছে, আবার কেউ কেউ আংশিক পরিষেবা বন্ধ রেখেছে।
শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (NRAI)-এর আশঙ্কা, যদি পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া না যায়, তবে দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ ছোট-বড় রেস্তোরাঁ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। রান্নার জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাবারের দাম আরও বাড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বিলাসিতার পর্যায়ে চলে যেতে পারে।
সরকারি অবস্থান ও ভিন্নমত
সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী অবশ্য এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “দেশে জ্বালানির কোনো অভাব নেই। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের আওতায় সাপ্লাই চেইন স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।”
মন্ত্রীর দাবি মানলেও বাজারে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের হাহাকার মেটেনি। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো সরকারের এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এলপিজি ব্যবস্থাপনায় চরম ব্যর্থতার অভিযোগ তুলছে। বাজারের বাস্তব চিত্র এবং সরকারের আশ্বাসের মধ্যে সাধারণ মানুষ এখন চরম বিভ্রান্তিতে।

