নয়াদিল্লি: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দীর্ঘ ১৮ বছরের আলোচনার (Bangladesh textile)পর অবশেষে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এই চুক্তিকে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলে অভিহিত করেছেন। চুক্তির ফলে ভারতের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস রফতানিতে বিপ্লব ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ইইউ-তে ভারতের টেক্সটাইল রফতানির পরিমাণ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু এফটিএ কার্যকর হলে এটি দ্রুত ৩০-৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। এই বৃদ্ধির ফলে শ্রম-নির্ভর এই খাতে ৬-৭ মিলিয়ন নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।
কিন্তু ভারতের এই বাণিজ্য চুক্তিতে প্রায় ধ্বংসের মুখে বাংলাদেশের টেক্সটাইল। চুক্তির অধীনে ভারতের ৯৯% এর বেশি রফতানি পণ্যে ডিউটি ছাড় বা কমানো হবে। টেক্সটাইল, লেদার, মেরিন প্রোডাক্টস, জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি, ফুটওয়্যারের মতো খাতগুলোতে দিন এক থেকেই জিরো ডিউটি অ্যাক্সেস মিলবে।
আইনি পরামর্শদাতা পদে নিয়োগের ঘোষণা ইসরোর
এর ফলে ভারতীয় পণ্য ইউরোপে বাংলাদেশ, ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগীদের সঙ্গে সমান সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ এতদিন এলডিসি সুবিধায় ইইউ-তে বড় অংশ দখল করেছিল। এখন ভারতের প্রবেশের ফলে বাংলাদেশের রফতানি শেয়ারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ভারতের টেক্সটাইল শিল্প ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যতম বড়। তবে ইইউ-তে উচ্চ ডিউটির কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে ছিল। এখন চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় উৎপাদকরা দাম কমিয়ে বাজার দখল করতে পারবেন। শিল্প সংগঠনগুলো বলছে, এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের টেক্সটাইল রফতানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। গুজরাট, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।
এমএসএমই খাতও এতে উপকৃত হবে।এই চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগতও। আমেরিকায় ৫০% ট্যারিফের চাপে ভারত বিকল্প বাজার খুঁজছিল। ইইউ-র সঙ্গে এই চুক্তি সেই দিক থেকে স্বস্তি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, এটি ২ বিলিয়ন মানুষের ফ্রি ট্রেড জোন তৈরি করেছে। ইইউ-র প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইয়েনও এটিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলে অভিহিত করেছেন।




















