নয়াদিল্লি: দেশবাসীকে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আর্জি জানানোর পরেই এবার আমদানিতে লাগাম টানতে কঠোর পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক (Import Tariff) ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একধাক্কায় ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য সোনা ও রুপো কেনা এখন অনেকটাই ব্যয়বহুল হতে চলেছে। (gold price surge after import duty increase India)
কেন এই মহার্ঘ সিদ্ধান্ত?
কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার (Foreign Exchange Reserve) রক্ষা করা এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। সরকার সোনা ও রুপোর ওপর ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টম ডিউটি এবং ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস (AIDC) বসিয়েছে, যার সম্মিলিত প্রভাবে মোট শুল্ক ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
আকাশছোঁয়া হবে সোনার দাম
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে প্রতি গ্রাম সোনার দাম ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে যেখানে ২৪ ক্যারেট সোনার ১ গ্রামের দাম ১৫ হাজার টাকার উপরে রয়েছে, শুল্ক বাড়ার পর ২২ ক্যারেট সোনার ১ গ্রামের দামই ২০ হাজার টাকার গণ্ডি পার করতে পারে। অর্থাৎ ১০ গ্রাম বা এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
শিল্পমহলের উদ্বেগ
ইন্ডিয়া বুলিয়ান অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের ন্যাশনাল সেক্রেটারি সুরেন্দ্র মেহতা জানিয়েছেন যে, এই আকস্মিক শুল্ক বৃদ্ধির ফলে গয়নার চাহিদার ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, শিল্পের একাংশ আশঙ্কা করছে যে, শুল্কের হার এতটা বেড়ে যাওয়ায় সোনা ও রুপোর চোরাচালান বা স্মাগলিং বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মুদ্রার পতন ও ফরেন রিজার্ভ
উল্লেখ্য, এশিয়ার মুদ্রাগুলোর মধ্যে বর্তমানে ভারতীয় রুপির অবস্থা সবথেকে শোচনীয়। ভারত তার সোনার চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার জন্য প্রচুর ডলার খরচ হয়। এই ডলারের খরচ কমিয়ে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় ধরে রাখতেই সরকার এই কড়া দাওয়াই প্রয়োগ করল। গত রবিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বছরের জন্য সোনা কেনা, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।




















